ভারতের অন্যতম মোস্ট ওয়ান্টেড গ্যাংস্টার হিমাংশু ভাউকে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের তথ্য অনুযায়ী, হরিয়ানার এই গ্যাংস্টার হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলায় ভারতীয় পুলিশের খাতায় পলাতক আসামি।
হিমাংশু ভাউয়ের প্রকৃত নাম হিমাংশু রিতোলিয়া। তিনি ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের রোহতক জেলার রিতোলি গ্রামের বাসিন্দা। বিদেশে অবস্থান করেও দিল্লি-এনসিআর, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবজুড়ে অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের আগস্টে তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করা হয়। ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ), দিল্লি পুলিশ ও হরিয়ানা পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়ও রয়েছেন তিনি।
কে এই হিমাংশু ভাউ?
২০০২ সালে জন্ম নেওয়া হিমাংশু ভাউ হরিয়ানার সংগঠিত অপরাধজগতের অন্যতম তরুণ গ্যাংস্টার হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, কিশোর বয়সেই তিনি অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। ২০২০ সালে অন্য কয়েকজন বন্দির সঙ্গে একটি কিশোর সংশোধনাগার থেকে পালিয়ে যান তিনি।
হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র রাখা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের একাধিক মামলায় তার নাম এসেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বিদেশে অবস্থান করেও ভারতে থাকা সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অপরাধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তিনি।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে হিমাংশু ভাউকে নীরজ বাওয়ানা গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোই ও গোল্ডি ব্রার গোষ্ঠীর সঙ্গে তার গ্যাংয়ের সহিংস বিরোধ রয়েছে বলেও খবর প্রকাশিত হয়েছে।
দিল্লি-হরিয়ানার একাধিক গুলির ঘটনায় নাম
দিল্লি ও হরিয়ানায় বেশ কয়েকটি আলোচিত গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে হিমাংশু ভাউ এবং তার কথিত গ্যাংয়ের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দিল্লির একটি বার্গার কিং আউটলেটে হত্যাকাণ্ড এবং ইউটিউবার এলভিশ যাদবের বাসভবনের বাইরে গুলিবর্ষণের ঘটনাও রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে গ্যাংটির বিরুদ্ধে। ২০২২ সালে হরিয়ানায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর পুলিশের নজরে আসেন হিমাংশু ভাউ। তদন্তকারীদের দাবি, তার নেটওয়ার্কের সশস্ত্র সদস্যদের ব্যবহার করে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হতো।
সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লির বাইরের একটি এলাকায় এক সম্পত্তি ব্যবসায়ী হত্যার ঘটনায়ও কথিত ভাউ গ্যাংয়ের সদস্যদের বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে একটি অভিযানের সময় সংঘর্ষের পর দিল্লি পুলিশ দুই কথিত শুটারকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় এক কিশোর সহযোগীকেও আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া
একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হিমাংশু ভাউয়ের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের আগস্টে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করে। সে সময় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হত্যা, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জালিয়াতিসহ ১৮টি মামলায় তাকে খোঁজা হচ্ছিল।
ইন্টারপোলের রেড নোটিশ কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়। এটি মূলত কোনো ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা এবং প্রত্যর্পণ বা অনুরূপ আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় তাকে সাময়িকভাবে গ্রেপ্তারের জন্য সদস্যদেশগুলোর কাছে অনুরোধ।
যুক্তরাষ্ট্রে হিমাংশু ভাউয়ের গ্রেপ্তারের খবরে, তাকে ভারতে ফিরিয়ে এনে মামলাগুলোর মুখোমুখি করার প্রচেষ্টায় এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হতে পারে। তবে তাকে ভারতে ফেরানো হবে কি না, তা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের প্রযোজ্য আইন এবং প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির ভাগ কীভাবে নির্ধারিত হয়?
ক্যানসার চিকিৎসার আগে দ্বিতীয় চিকিৎসকের পরামর্শ কেন গুরুত্বপূর্ণ