ইরানে জানুয়ারির বিক্ষোভে ২৯ জনের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

ইরানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত ৪ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানুয়ারির বিক্ষোভের ঘটনায় অন্তত ২৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক মাই সাতো।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত তাঁর সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রতিবেদনটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিক্ষোভকারী, সরকারের সমালোচক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিল্পী এবং বিভিন্ন জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য রয়েছেন।

ইরানে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন মাই সাতো। বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলায় আসামিদের পছন্দের আইনজীবী নিয়োগের সুযোগ সীমিত করা, মামলার নথিপত্র দেখতে না দেওয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না দেওয়ার বিষয়গুলো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জোরপূর্বক আদায় করা হয়েছে বলে বিবেচিত স্বীকারোক্তি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচার করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এসব স্বীকারোক্তি সম্প্রচার করা হয়।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র সংঘাত এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন—দুই দিক থেকেই দেশটির মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পরিস্থিতির প্রভাব অন্যটির কারণে আরও তীব্র হয়েছে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাই সাতো বলেন, যুদ্ধ দমন-পীড়ন কমায়নি; বরং তা আরও বাড়িয়েছে। তাঁর মতে, আগে থেকেই প্রান্তিক অবস্থানে থাকা জনগোষ্ঠীগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিবেদনে দেওয়া সুপারিশগুলো শুধু ইরানের জন্য নয়; যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ও অন্যান্য সরকারের প্রতিও প্রযোজ্য।

প্রতিবেদনটি ইরানে গ্রেপ্তার, মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়া এবং সংঘাতের মানবাধিকারগত প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ তুলে ধরেছে। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ ও পরিসংখ্যানের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

এমইউ
আরও পড়ুন