মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে থাকলেও নীরব ইসরায়েলি নেতারা। তবে তাদের এই নীরবতা কোনো নিষ্ক্রিয়তা নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে এক গভীর কৌশল। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমান সময়কে একটি সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তিনি চাইছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে ইরানে খামেনির শাসনের পতন ঘটাতে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিবিসির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত ইরানের যেকোনো ইস্যুতে সোচ্চার থাকলেও এবার জনসমক্ষে খুব কম কথা বলছেন নেতানিয়াহু।
এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ড্যানি সিট্রিনোভিচ বিবিসিকে বলেন, এই নীরবতা থেকেই বোঝা যায়, নেতানিয়াহু এই মুহূর্তটিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন। নেতানিয়াহু মনে করেন, পারস্য উপসাগরে বিপুল মার্কিন সেনা উপস্থিতি এবং ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক মনোভাব ইরানের শাসনব্যবস্থা ভাঙার এক বিরাট সুযোগ তৈরি করেছে।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা ইউনিটের সাবেক উপ-পরিচালক আসাফ কোহেনও জানিয়েছেন, এই নীরবতার পেছনে একটি সুপরিকল্পিত কৌশল কাজ করছে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলি নেতৃত্ব চায় এবার যুক্তরাষ্ট্রই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিক, কারণ তাদের শক্তি ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেশি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে প্রধান হুমকি ও মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখে আসছেন।
প্রকাশ্যে নীরব থাকলে নেতানিয়াহু ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে ইরানে সর্বাত্মক হামলার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে জানায় বিবিসি।
সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দাপ্রধান শ্লোমি বিন্ডার ওয়াশিংটনে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ইরানে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
কেন ইরানে সরকার পরিবর্তন চায় ইসরায়েল?
ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মতে, তেহরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তিত হলে বড় সুবিধা মিলতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা, লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো শক্তিশালী প্রক্সি গোষ্ঠীর খাদ্য, জিনিসপত্র ও আর্থিক সমর্থন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সার্বিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার হওয়া।
ইসরায়েল মনে করে ইরানে খামেনি সরকারের নেতৃত্ব বহাল থাকলে যেকোনো চুক্তি বা সীমিত হামলা শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। পাল্টা হামলার আশঙ্কা ও ঝুঁকি থেকে যায়।
বিশ্লেষক ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আসাফ কোহেনের মতে, ইরান এখন সামরিক ও অভ্যন্তরীণভাবে তার ইতিহাসের অন্যতম দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। দেশের ভেতরে বিক্ষোভ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা আরোপে তেহরান এখন কোণঠাসা।
তিনি বলেন, এটি এমন এক সুযোগ যা হয়তো আর কখনো আসবে না। অনেকের কাছেই এটি ‘এখনই নয়তো কখনোই নয়’ এমন একটি মুহূর্ত।
তবে গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধের স্মৃতি এখনো ইসরায়েলিদের মনে রয়েছে। সে সময় ইরানের কয়েকশ ব্যালিস্টিক মিসাইল ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে তেল আবিবের আবাসিক এলাকায় আঘাত হানে। এতে নিহত হন ২৮ জন। সূত্র: বিবিসি
সৌদি ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা জোটে তুরস্ক যোগ দিচ্ছে না
যৌন অপরাধীর নথিতে মোদির নাম: প্রত্যাখ্যান ভারতের
