মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক চূড়ান্ত ও ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটামের জবাবে ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তেহরান জানিয়েছে, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বা কোনো ধরণের স্থল অভিযান শুরু হলে তারা পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথগুলোতে শক্তিশালী ‘নৌ-মাইন’ পেতে দেবে এবং আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেবে।
সোমবার (২৩ মার্চ) ভোরে ইরানের প্রতিরক্ষা পরিষদের এক বিবৃতিতে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ খুলে দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে প্রণালিটি উন্মুক্ত না করলে ইরানের গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে মার্কিন হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইরানের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে এই কেন্দ্রগুলো থেকে।
যুদ্ধের ভয়াবহতায় এখন পর্যন্ত ইরানে ১ হাজার ৫০০ এবং লেবাননে ১ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলে ১৫ জন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৩ জন সেনা নিহত হয়েছে। ইরান ও লেবাননে প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সোমবার ভোরে ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের লিতানি নদীর ওপর অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সেতুসহ একাধিক যোগাযোগ পথ ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর ফলে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
ইরানের এই মাইন পাতার হুমকি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরণের ধস নামাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে রাশিয়া সতর্ক করে বলেছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে তার পরিণতি হবে ‘ভয়াবহ ও অপরিবর্তনীয়’। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই যুদ্ধের প্রভাবে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে চরম দুর্ভিক্ষ ও দারিদ্র্য দেখা দিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কোনো শক্তিশালী কূটনৈতিক সমাধান না এলে বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। সূত্র: কেএসটিপি
ঘনিয়ে আসছে হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে ব্রিটেনে জ্বালানি সংকট
