ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরান: আইআরজিসি

আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ পিএম

ইরান দ্রুত ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) উপপ্রধান মেজর জেনারেল মোস্তফা ইজাদি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে ইরান শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বক্তব্যে ইজাদি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান শক্তি নিয়ে অবস্থান করছে এবং দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দ্রুত সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা শক্তি নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে উপস্থিত আছি। আমরা দ্রুত আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াচ্ছি।

ইজাদির এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নৌ চলাচল নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। তেহরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত। এর পাশাপাশি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর বার্তাও দিয়ে যাচ্ছে ইরানের সামরিক নেতৃত্ব।

ইজাদি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে আঞ্চলিক দেশগুলো বুঝতে পেরেছে যে শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ওপর নির্ভর করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাঁর ভাষ্য, এই উপলব্ধি থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ নিজেদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

এর আগে ২০ সেপ্টেম্বরও ইজাদি দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই বক্তব্যে তিনি জানিয়েছিলেন, দেশটির সামরিক বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ও স্থল সক্ষমতা আরও জোরদার করছে।

ইরান এরই মধ্যে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে একাধিক দাবি করেছে। ২১ সেপ্টেম্বর আইআরজিসি হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন এবং একটি অরবিটার গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে। তবে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই সব ক্ষেত্রে সম্ভব হয়নি।

এদিকে আগস্টে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি দাবি করেছিলেন, যুদ্ধবিরতির সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বেড়েছে। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের নির্ভুলতাও উন্নত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মজুতের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ করেনি।

চলতি বছরের আগস্টে আইআরজিসির উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন মোস্তফা ইজাদি। একই সময়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সামরিক নেতৃত্বে একাধিক পরিবর্তন আনেন এবং আইআরজিসির প্রতিরোধক্ষমতা জোরদারের নির্দেশ দেন।

হরমুজকে ঘিরে সামরিক তৎপরতার পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া সাত দিনের পরিকল্পনায় নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ কয়েকটি শর্তের কথা জানিয়েছে। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মন্ত্রিসভার বৈঠকে মার্কিন প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা যেমন এগোচ্ছে, তেমনি সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণাও অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাস্তবে কতটা বেড়েছে, তার সুনির্দিষ্ট মাত্রা নির্ধারণের মতো স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো সীমিত।

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত