ইরানের পণ্যবাহী জাহাজ অচল করলো যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

ইরানের বন্দর থেকে ছেড়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অমান্য করে চলাচলের চেষ্টা করায় ওমান উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজ অচল করে দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জাহাজটির ক্রুরা বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায় একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান নির্ভুল নিশানায় গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে জাহাজটির চালনা ব্যবস্থা অকার্যকর করে দেয়। তবে এতে জাহাজের কোনো ক্রু আহত হননি বলে দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, পানামার পতাকাবাহী এম/ভি ওশান মলিকা নামের জাহাজটি ‘আরিকা সান’ নামেও পরিচিত। জাহাজটি ইরানের একটি বন্দর থেকে ছেড়ে আঞ্চলিক জলসীমা অতিক্রম করার চেষ্টা করছিল।

সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, বারবার সতর্ক করার পরও জাহাজের ক্রুরা নির্দেশনা না মানায় মার্কিন যুদ্ধবিমান জাহাজটির পেছনের অংশে নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানে। এতে জাহাজটির ইঞ্জিন ও চালনা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়।

তবে জাহাজটির মালিক বা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজ চলাচলে সতর্কতা

ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে অবরোধসংক্রান্ত সতর্কবার্তা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে সেন্টকম। একই সঙ্গে নৌ চলাচলসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি পর্যবেক্ষণ এবং মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানের বন্দরে প্রবেশকারী ও সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ কার্যকর রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আঞ্চলিক সংঘাতে বাড়ছে নৌ চলাচলের ঝুঁকি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং সামরিক অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল কমেছে।

বিশ্বের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হতো। এই পথে চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং তেলের বাজারে চাপ তৈরি হতে পারে।

ওমান উপসাগরে সর্বশেষ জাহাজ অচল করার ঘটনা ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্র: রয়টার্স, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। 

এমএজেড
আরও পড়ুন