সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক কণাও ইরানের বাইরে যাবে না: রেজাই

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের এক কণাও দেশের বাইরে নেওয়া হবে না বলে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করার আগে ওয়াশিংটনকে ইরানের আস্থা অর্জনের শর্ত পূরণ করতে হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আস্থার সংকটের কারণে কূটনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকার মধ্যেই মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এ অবস্থান জানান ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

রাজধানী তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে রেজাই বলেন, ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের ভেতরেই থাকবে। এর এক কণাও দেশের বাইরে যাবে না। ইরানের জনগণের জন্য এই উপাদানকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও জাতীয় সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরেই এটি ব্যবহৃত হবে।

রেজাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শর্ত পূরণের মাধ্যমে আস্থা প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত কোনো আলোচনা হবে না, এ বিষয়ে দেশটির জনগণ ও কর্মকর্তারা ঐক্যবদ্ধ। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে হস্তান্তরের প্রস্তাব মেনে নেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না তেহরান।

ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের প্রস্তাবে আপত্তি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবে ইরানের মজুত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে তেহরান ধারাবাহিকভাবে এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে আসছে। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির আওতায় শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকারও দাবি করছে ইরান।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের বিরোধের মধ্যে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত এখন আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। তেহরানের অবস্থান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতার আগে ইরানের শর্ত ও পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ৪০ দিনের যুদ্ধ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তোলে। এর আগে গত বছরের জুনে শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনায় ছিল ইরান। সেই আলোচনার সময়ই দেশটির ওপর হামলা চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং একটি সমঝোতা স্মারক তৈরি হলেও তা স্থায়ী চুক্তির পথ খুলে দিতে পারেনি। ফলে দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিরোধ এখনো অমীমাংসিত রয়েছে।

ইরান-পাকিস্তান সীমান্ত খুলে দেওয়ার ঘোষণা

রেজাইর সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, দুই দেশের সীমান্তসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান হয়েছে এবং মঙ্গলবার সকাল থেকেই সীমান্ত পারাপারের পথগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।

মুনির বলেন, ইরান-পাকিস্তান সীমান্তের সমস্যা সমাধান হয়েছে এবং সকাল থেকেই সীমান্ত খুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৪০ দিনের যুদ্ধে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধের প্রশংসা করেন তিনি।

বিদেশি বাহিনীর উপস্থিতি ছাড়াই আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। যুদ্ধের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন, উভয় পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখায় আলোচনার পথ খোলা রাখার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তবে রেজাইর বক্তব্যে ইরানের অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর প্রশ্নে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রকে আগে আস্থা প্রতিষ্ঠার শর্ত পূরণ করতে হবে; অন্যথায় নতুন করে আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত