হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ানোর ইঙ্গিত ইরানের, টার্গেট মার্কিন ঘাঁটি

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘন করে জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপের আওতায় আসতে পারে।

তেহরান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক মোহামেদ ভ্যাল জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজগুলোর পরিচয় কিংবা জাতীয়তা আইআরজিসি প্রকাশ করেনি। তবে ইরানি বাহিনীর দাবি, চারটি জাহাজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ইরানের নির্ধারিত নিয়ম লঙ্ঘন করেছিল। এ কারণে জাহাজগুলোতে সরাসরি আঘাত করা হয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন কতটি জাহাজ এ ধরনের ঘটনার মুখে পড়ছে, তা পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে সংঘাত শুরুর পর থেকেই পরিস্থিতিটি প্রায় প্রতিদিন ঘটছে, বিশেষ করে গত কয়েক সপ্তাহে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ওই সাংবাদিক।

আইআরজিসির সর্বশেষ বিবৃতিতে শুধু জাহাজে হামলার বিষয়টি নয়, বরং সংঘাতের পরিধি বাড়ানোর সম্ভাবনাও উঠে এসেছে। ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার কারণেই জাহাজ চলাচল নিয়ে কথিত নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

তবে জাহাজগুলো ঠিক কোন নিয়ম ভঙ্গ করেছে, সেগুলোর মালিকানা কার এবং ইরানের অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ কী এসব বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই।

মোহামেদ ভ্যালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ইরান ভবিষ্যতে শুধু জাহাজে আঘাত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপরও পাল্টা হামলা চালাতে পারে।

এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত আবার শুরু হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক।

তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আইআরজিসির বক্তব্য একটি হুঁশিয়ারি; মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার তথ্য এতে নেই।

হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবাহিত হয়।

এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। আর সংঘাত যদি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু উপসাগরীয় অঞ্চলে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকবে।

এএম
আরও পড়ুন