শত্রুর অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি তেহরানের

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

ইরানের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালানো হলে যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিপক্ষের অর্থনৈতিক অবকাঠামোও চিরকাল নিরাপদ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজাই। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপের জন্য প্রতিপক্ষকে মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ড্রপসাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, ইরানের তেল স্থাপনা, বন্দর ও নৌপরিবহনকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না, অথচ একই সঙ্গে যুদ্ধকে সমর্থনকারী অন্য পক্ষের অর্থনৈতিক অবকাঠামো চিরকাল হামলার বাইরে থাকবে, এমনটা ভাবার সুযোগ নেই।

রেজাইর এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, ইরানের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা হলে তার জবাবে প্রতিপক্ষের অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টিও তেহরানের বিবেচনায় রয়েছে। তবে কোন দেশ বা কোন ধরনের স্থাপনা সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন কোনো চুক্তিতে আগ্রহী নয় ইরান, যার নিশ্চয়তা কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। রেজাই বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার পর তেহরান এখন আর শুধু রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে কোনো সমঝোতায় যেতে চায় না।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়েও ইরানের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান যে শর্তগুলো ঘোষণা করেছে, সেগুলো বাস্তবায়নের ওপরই প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে। তবে ওই শর্তগুলোর বিস্তারিত এই বক্তব্যে তুলে ধরেননি তিনি।

রেজাই আরও জানান, আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছে তেহরান। ইরানের প্রস্তাবিত বিকল্প ব্যবস্থায় জ্বালানি স্থাপনা, নৌপথ এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে পারস্পরিকভাবে যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তার এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে জ্বালানি সরবরাহ ও নৌপরিবহন সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে সংঘাতের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হতে পারে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সম্মত হয়েছে কি না, কিংবা তা বাস্তবায়নে কোনো নির্দিষ্ট অগ্রগতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

রেজাইর বক্তব্যে একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জবাবে পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি রয়েছে, অন্যদিকে জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোকে যুদ্ধের বাইরে রাখার আঞ্চলিক নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রস্তাবও উঠে এসেছে। তার অবস্থান অনুযায়ী, কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও ইরানের অর্থনৈতিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে প্রতিপক্ষের স্থাপনাও অনাক্রম্য থাকবে, এমন নিশ্চয়তা তেহরান দিতে প্রস্তুত নয়। সূত্র: প্রেস টিভি

এএস
আরও পড়ুন