ইয়েমেনের তাইজ শহরে নতুন করে হুথি অবরোধ জোরদার হওয়ায় গুরুতর সংকটে পড়েছে রিপাবলিকান হাসপাতাল। জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই হাসপাতালটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এর পরিচালক।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসেবা চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত তরল বা সলিউশনের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিশেষ করে ডায়ালাইসিসের মতো জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসাম মাহিউব দাহান জানান, অবরোধ ও সরবরাহ সংকটের কারণে রোগীদের ডায়ালাইসিসের সময় কমাতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা। আগে প্রতিবার চার ঘণ্টা ডায়ালাইসিস করা হলেও এখন তা কমিয়ে আড়াই ঘণ্টায় নামানো হয়েছে। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, “আমরা জানি, এই সময় যথেষ্ট নয়। কিন্তু কেন্দ্রটি যত দিন সম্ভব চালু রাখতে এবং পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া ঠেকাতে আমাদের আর কোনো উপায় নেই।”
ডায়ালাইসিস কিডনি বিকল রোগীদের রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত তরল অপসারণে সহায়তা করে। নির্ধারিত চিকিৎসা পর্যাপ্ত সময় ধরে দেওয়া না গেলে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। তাই হাসপাতালের সংকট দীর্ঘায়িত হলে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল রোগীদের জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, ডিজেল ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ পুনরায় নিশ্চিত করা না গেলে শুধু ডায়ালাইসিস নয়, অন্যান্য জরুরি চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হতে পারে। তবে হাসপাতালটিতে বর্তমানে কতজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বা কতজন সরাসরি এই সংকটে আক্রান্ত—প্রতিবেদনে তার নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া হয়নি।
ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ শহর তাইজ দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত ও অবরোধজনিত সমস্যার মুখে রয়েছে। আল জাজিরার আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে অবরোধ জোরদার হওয়ায় সেখানে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
যুদ্ধ ও অবরোধের প্রভাব হাসপাতালের মতো জরুরি সেবাকেন্দ্রেও পড়ছে। জ্বালানি না থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা সরঞ্জাম চালানো এবং রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি দেখা দিলে বিকল্প উপায়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে যায়।
রিপাবলিকান হাসপাতালের পরিচালক দ্রুত জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সংকট অব্যাহত থাকলে হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বহু রোগীর নিয়মিত চিকিৎসা ব্যাহত হবে।
তাইজের পরিস্থিতি আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অবরোধের প্রভাব শুধু খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা সরাসরি স্বাস্থ্যসেবা ও মানুষের জীবন রক্ষার সক্ষমতাকেও বিপন্ন করে।
সূত্র: আল জাজিরা, ২৪ অক্টোবর ২০২৬; প্রতিবেদক আবদুলহাকিম হেলাল।
‘কন্যাকে রক্ষায় থাপ্পড়-লাথি মারার অধিকার রাখে বাবা’
ইরানে নতুন মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার শঙ্কায় অস্থির মধ্যপ্রাচ্য
কেনিয়ায় বহুতল ভবন ধসে নিখোঁজ ৭