বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ঢালাও পাল্টা শুল্ককে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের এই রায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এর আগে ১৯৭৭ সালের ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট’ (আইইইপিএ) ব্যবহার করে যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, সেই আইনটি প্রেসিডেন্টকে এমন ঢালাও ক্ষমতা দেয় না। ফলে ওই শুল্ক আইনত টিকবে না।
সুপ্রিম কোর্টের এই ধাক্কার পরপরই ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ১২২’ ব্যবহার করে নতুন শুল্ক ঘোষণা করেন। এই আইন অনুযায়ী, দেশের বাণিজ্য ঘাটতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারেন। নতুন এই ১০ শতাংশ শুল্ক আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী ১৫০ দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে।
ট্রাম্পের এই নতুন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর কার্যকর হবে। তবে মেক্সিকো ও কানাডা থেকে আসা যেসব পণ্য উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (ইউএসএমসিএ) শর্ত মেনে চলে, সেগুলো এই শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া ওষুধশিল্প, অ্যারোস্পেস পণ্য, যাত্রীবাহী গাড়ি, হালকা ট্রাক এবং নির্দিষ্ট কিছু খনিজ ও কৃষিপণ্যকেও এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে।
এদিকে, আগের শুল্ক অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় আমদানিকারকদের কাছ থেকে আদায় করা বিপুল পরিমাণ অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রশ্ন উঠেছে। পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্কলন অনুযায়ী, সরকারকে প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ফেরত দিতে হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম এই আদায়কৃত অর্থকে ‘অবৈধ অর্থ ছিনতাই’ হিসেবে অভিহিত করে তা সুদে-আসলে ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে বছরের পর বছর আইনি লড়াই চলবে।
আদালতের রায়ের পর আরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের
