ইসরায়েলি সামরিক প্রশিক্ষণের জন্য মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৯টি মরদেহ ‘বিক্রি'

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডায় কর্মস্থলে বসে হঠাৎই একটি উদ্বেগজনক বার্তা পান মেডিক্যাল কেস ম্যানেজার মরিয়ম ভলপিন। বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার এক শিক্ষানবিশ সাংবাদিক, যিনি একটি অনুসন্ধানী দলের অংশ হিসেবে একটি গুরুতর অভিযোগের খোঁজ করছিলেন।

অভিযোগটি ঘিরে তৈরি হয় বিস্তর আলোচনার ঝড়। দাবি করা হচ্ছে, শিক্ষাগত ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার উদ্দেশ্যে দান করা মরদেহগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে। এমনকি কিছু মরদেহ ইসরায়েলি সামরিক চিকিৎসা দলের প্রশিক্ষণেও ব্যবহার হয়ে থাকতে পারে, এমন ইঙ্গিতও উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।

মরিয়ম ভলপিন আল জাজিরাকে জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তাঁর নিজের মাও আগে দেহদান করেছিলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বিমানবাহিনীর নার্স হিসেবে কাজ করা সেই মা মৃত্যুর পর নিজের শরীর ইউএসসিতে দান করেছিলেন। এখন তিনি আশঙ্কা করছেন, সেই মরদেহও সামরিক প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদল শিক্ষানবিশ সাংবাদিকের তদন্তে দেখা যায়, সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মার্কিন নৌবাহিনীর মাধ্যমে ইসরায়েলি সামরিক চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের জন্য মরদেহ সরবরাহ করেছিল। ইউএসসি এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বলে দাবি করা হচ্ছে।

নথি ও প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে শতাধিক মরদেহ এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে। এসব মরদেহ ব্যবহার করা হয়েছে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে শল্যচিকিৎসা প্রশিক্ষণের জন্য।

প্রশিক্ষণে মৃতদেহে কৃত্রিমভাবে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্য তৈরি করা হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে চিকিৎসকদের জরুরি অস্ত্রোপচার দক্ষতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।

তবে এই পুরো প্রক্রিয়া ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে স্বচ্ছতা ও সম্মতির বিষয়টি নিয়ে। দেহদানকারীরা সাধারণত জানেন না তাঁদের মরদেহ পরবর্তীতে ঠিক কীভাবে ব্যবহার করা হবে। এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিষয়টি নিয়ে আল জাজিরার প্রশ্নে বলেছে, এটি একটি শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। তবে সমালোচকদের মতে, সামরিক প্রশিক্ষণে মরদেহ ব্যবহারের বিষয়টি নৈতিক ও মানবিক প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে।

এদিকে, এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেহদান কর্মসূচি নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সম্মতি ও স্বচ্ছতা না থাকলে এমন কর্মসূচির প্রতি আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন