মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির আশা ট্রাম্পের

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৩ পিএম

আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রেখেছে। একই সঙ্গে চুক্তি না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসানে তার প্রশাসন একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে। তবে আলোচনায় ইরানকে চাপ দিতে অন্য দেশগুলোকেও অর্থনৈতিকভাবে তেহরানকে বিচ্ছিন্ন করার আহ্বান জানান তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দেশটিকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসাই এর উদ্দেশ্য। এর আগে তিনি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগে সব দেশকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়েও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, চলমান সংঘাত ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেয়নি। তবে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না গেলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেন তিনি।

ভাষণে কিউবার পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। দেশটির কমিউনিস্ট সরকারকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার প্রশাসন কিউবার পরিস্থিতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে।

ট্রাম্প বলেন, কিউবার কমিউনিস্ট সরকার সবচেয়ে বড় চাপের মধ্যে রয়েছে এবং আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংকটে আছে। তার দাবি, শেষ পর্যন্ত এই সরকার পতনের মুখে পড়বে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কমিউনিজম আসবে না, তবে কিউবায় স্বাধীনতা আসবে।

ট্রাম্পের কিউবা-সংক্রান্ত বক্তব্যের সময় দেশটির প্রতিনিধিদল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়।

কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বিরোধের প্রসঙ্গও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে কিউবার ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের প্রশাসনও কমিউনিস্ট-শাসিত দেশটির ওপর চাপ বাড়িয়ে আসছে।

ফিদেল কাস্ত্রোর ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার কট্টরপন্থী কিউবান-আমেরিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের শক্তিশালী সমর্থন রয়েছে এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে কিউবার সরকার পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। সূত্র: আরব নিউজ

এএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত