ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কিউবার উপকূলের কাছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবায় রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রত্যাশীদের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এতে ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্সে এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। খবর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও রয়টার্সের।
সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, ইরান থেকে ফেরার পথে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো কিউবার পাশ দিয়ে যাবে। সেখান থেকে একটি জাহাজ দ্বীপটির উপকূল থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে অবস্থান নিতে পারে। তাঁর ভাষ্য, এমন পরিস্থিতিতে কিউবার নেতারা আত্মসমর্পণ করবেন। এরপর রুবিও সেখানে গিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত করবেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ইরান থেকে ফেরার পথে কিউবার বিষয়টি সামলাব। আমাদের জাহাজগুলো কিউবার পাশ দিয়ে যাবে। একটি জাহাজ উপকূল থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে থামবে। তারা হাত তুলে আত্মসমর্পণ করবে। এরপর আমরা মার্কো রুবিওকে চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে পাঠাব।’
তবে ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনা, সময়সূচি কিংবা কিউবার সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত জানাননি। মার্কিন নৌবাহিনীকে এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।
কিউবানদের সিআইএর সঙ্গে কাজ করার আহ্বান রুবিওর
ট্রাম্পের বক্তব্যের কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে রুবিও কিউবায় পরিবর্তন চান—এমন ব্যক্তিদের উদ্দেশে বলেন, ‘এখনই সময়’।
তিনি কিউবার সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা, দুর্নীতি এবং অল্প কয়েকজনের সুবিধাভোগী অবস্থার কথা উল্লেখ করে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে সিআইএর সঙ্গে ‘গোপনীয় অংশীদারত্বে’ কাজ করার আহ্বান জানান।
তবে রুবিও কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা অভিযান, পরিকল্পনা বা সহযোগিতার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। তাঁর বক্তব্য কিউবার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মার্কিন ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
কিউবান অভিবাসীদের সন্তান রুবিও দীর্ঘদিন ধরে দেশটির কমিউনিস্ট নেতৃত্বের কঠোর সমালোচক। ট্রাম্প প্রশাসনও কিউবার সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়েছে এবং দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষ্য প্রকাশ করেছে।
কিউবার ওপর চাপ বাড়ছে
কিউবা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, পণ্যস্বল্পতা ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা আরও প্রকট হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত তেল অবরোধ দেশটির সংকট বাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও হয়েছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষের পর কিউবার বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণেও ট্রাম্প কিউবার কঠোর সমালোচনা করেন এবং দেশটির সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁর প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরেন।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য জাতিসংঘে জানিয়েছিলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংলাপের জন্য হাভানা সব সময় প্রস্তুত।
সামরিক পদক্ষেপ কি বাস্তব পরিকল্পনা?
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা আবার সামনে এনেছে। এর আগে তিনি ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের পর কিউবার বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি অতীতে ওয়াশিংটন ও হাভানার মধ্যে সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন এবং সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন নাও হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।
এখন পর্যন্ত কিউবার উপকূলে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সামরিক নির্দেশ বা নির্দিষ্ট অভিযানসূচি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ট্রাম্পের বক্তব্যকে বাস্তব সামরিক পরিকল্পনা হিসেবে ধরে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
তবে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর ইঙ্গিত এবং সিআইএর সঙ্গে কাজ করার জন্য কিউবানদের প্রতি রুবিওর আহ্বান—দুটি ঘটনাই কিউবার ওপর মার্কিন প্রশাসনের চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে এগোবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের পরবর্তী কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স।
বাংলাদেশি চক্ষু রোগীদের জন্য 'গ্রিন চ্যানেল' চালু করলো চীন
সাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা
‘কন্যাকে রক্ষায় থাপ্পড়-লাথি মারার অধিকার রাখে বাবা’
ইরানে নতুন মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার শঙ্কায় অস্থির মধ্যপ্রাচ্য
আটক অবস্থায় খেতে পারত না কিশোরী, মুক্তির ৫ মাস পর মৃত্যু