ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা কিংবা আলোচনার অংশ ছিল না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন শেহবাজ শরীফ। ইসলামাবাদে সফররত মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারকে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো উল্লেখ নেই এবং বিষয়টি কখনো আলোচনার টেবিলেও আসেনি।
শেহবাজ বলেন, 'আমি পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েই বলতে পারি, এই সমঝোতা স্মারকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে কোনো কথাই উল্লেখ নেই। এটি কখনোই আলোচনার টেবিলে ছিল না, আলোচ্যসূচিতেও ছিল না। এমনকি ইরানও এ বিষয়ে আলোচনা করতে চায়নি।'
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো অনুমান বা ব্যাখ্যা নয়, বরং আলোচনার বাস্তব চিত্র। তাঁর ভাষায়, কিছু দেশের হাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকবে অথচ ইরানকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে, এ ধরনের অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিকভাবে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। ওই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের অবসান এবং লেবাননকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত করা।
শেহবাজ শরীফ অভিযোগ করেন, কিছু পক্ষ এই শান্তি প্রক্রিয়াকে ব্যর্থ করে দিতে চায়। তাঁর মতে, তারা চায় না ইরান যুদ্ধ ও অস্থিরতার পর নতুন করে পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে যাক।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তার ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। 'সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই দায়িত্ব পালন করে যাব', বলেন তিনি।
বৈঠকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের সময় প্রাণহানির ঘটনায় সমবেদনাও জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে কঠিন সময়ে পাকিস্তান ও ইরান একে অপরের পাশে থেকেছে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
শেহবাজ জানান, আগামী সপ্তাহে তিনি তেহরান সফরে যাবেন। পাশাপাশি দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক আলোচনা করেছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
সমঝোতা নিয়ে হামাস নেতার সঙ্গে আরাঘচির ফোনালাপ
পরমাণু ইস্যু নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
তেল রপ্তানিতে ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার