বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের পানি সমস্যা আছে। এই এলাকা (রংপুর অঞ্চল) কৃষিভিত্তিক এলাকা তাই এখানে বেশি সমস্যা। ১২ তারিখে রায় হলে আমরা সরকার গঠন করতে পারলে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প সতেজ হবে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে।’
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে রংপুরে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিভাগীয় নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান আরো বলেন, ‘যে অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য আবু সাঈদ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, চট্টগ্রামের ওয়াসিম নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে, এরকম হাজারো মানুষ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে। মানুষের কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের এই জীবন উৎসর্গ করে মূল্যায়ন করতে পারবো। একইভাবে তাদদের জীবন উৎসর্গকে মূল্যায়ন করতে হলে আমরা যে জুলাই সনদে স্মাক্ষর করেছি সেই জুলাই সনদকেও আমাদের সম্মান করতে হবে। এবং সেজন্য আপনাদের সকলকে অনুরোধ করবো ধানের র্শীষে যেমন সিল মারবেন একই সাথে দ্বিতীয় ব্যালট পেপারে হ্যা য়ের পক্ষে রায় দিবেন। জুলাই সনদকে সম্মান দিয়ে গণভোটে হ্যাঁ ভোটে ভোট দিতে হবে।’
মহানগর আহবায়ক ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে এসময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা: এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ রংপুর বিভাগের ৩৩ আসনের এমপি প্রার্থীরা।
তারেক রহমান বলেন, ‘আজ সময় এসেছে আবু সাঈদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের। আজ সময় এসছে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের। আল্লাহ্ তায়ালা যদি দেশ পরিচালনা করার জন্য আমাদেরকে সুযোগ দেয়, সুযোগটিকে আমরা দেশের কাজে জনগণের স্বার্থে ব্যবহার করবো। যাতে আমাদের আগামী দিনের কাঙ্খিত বাংলাদেশ গড়তে পারি। দেশকে গড়ে তুলতে হলে সকলকে একসাথে পরিশ্রম করতে হবে। এই উত্তরঅঞ্চল আর মঙ্গাপীরিত থাকতে পারে না। এই বারে আমরা পরিবর্তন করতে পারবো আপনাদের যদি সামর্থন আমাদের সাথে থাকে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর নিশিরাতে নির্বাচন হয়েছে। এবার আর হতে দিবো না। ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। ভোরবেলা ভোটের লাইনে গিয়ে দাড়াতে হবে। ভোট গণনা শেষে রেজাল্ট নিয়ে বাড়ি যাবেন।’
তারেক রহমান বলেন, ‘ করবো কাজ গড়বো দেশ সবার আগে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ভালো থাকলে দেশের মানুষ ভালো থাকবে। আমাদের শক্তি বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশের মানুষের সিদ্ধান্তের প্রথম ও শেষ সিন্ধান্ত।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দুর্নীতির টুটি চেপে ধরতে হবে। আমরা দেখেছি বিগত ষোল বছর মেগা প্রজেক্টের নামে কিভাবে দুর্নীতি করা হয়েছে। যদি মেগা প্রজেক্ট হতো। তাহলে আমাদের কোন আপত্তি থাকতো না। আমরা দেখেছি কিভাবে মেগা প্রকল্পের নমে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। এই দুর্নীতির অবসান হতে হবে। আবু সাঈদের যেমন হত্যার বিচার হতে হবে। দেশের মানুষের সম্পদ লুটপাট করে যারা বিদেশে পাচার করেছে, অর্থ পাচার করেছে তাদেরও এই দেশে বিচার করতে হবে। পাচার হওয়া অর্থ বিদেশ থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে মানুষের মাঝে ব্যবহার করা হবে। এই কাজটিও যদি কেউ করেত পারে সেটাও বিএনপির পক্ষেই করা সম্ভব। কারণ একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা দুর্নীতিতে কে কত পেলো সেটা হিসাব যারা করে। তাদের হিসাব মতো ২০০১ সালে যখন খালেদা জিয়া দায়িত্ব পায় তখন থেকেই বাংলাদেশে দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হতে থাকে। বিএনপি এটিও প্রমাণ করে দেখিয়েছে যে বিএনপি একমাত্র এই দেশ থেকে দুর্নীতির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করতে। ’
জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘ প্রিয় ভাই বোনেরা, একটি দল (জামায়াত) আছে। সেই দল মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছে কয়েকদিন ধরে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। আজো দেখলাম তারা বলেছে। তাদের ২ জন সদস্য ২০০১ পর্যন্ত আমাদের সাথে সরকারে ছিল। এখন তারা বলছে নাকি বিএনপির সময় পরিস্থিতি অন্যরকম ছিল। তাহলে তাদের মানুষগুলো ভালো। আমাদের মানুষগুলো খারাপ। আমার প্রশ্ন হলো ভালো মানুষের সাথেই তো ভালো মানুষ থাকে। তাহলে তারা যদি ভালো মানুষ আর বিএনপি যদি খারাপ মানুষ হয়ে থাকে। তাহলে তারা আমাদের সাথে প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তারা ছিল। তাদের থাকাটাই প্রমাণ করে খালেদা জিয়া যে দুর্নীতির সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত থাকাটাই প্রমাণ করে যে বিএনপি একমাত্র দুর্নীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, বিএনপির পক্ষেই সেটা সম্ভব। তাদের থাকাতেই প্রমাণ করে একমাত্র বিএনপির নেতৃত্ব এই দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পরে।
জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান আরও বলেন, ‘ হয় এই দলটির মাথা খারাপ হয়ে গেছে। অথবা নিজের নেতৃত্বে সম্পর্কে নিজেই আবোল তাবোল কথা বলছে। তারা ভুল কথা বলছে। কাজেই আমরা সেই বিতর্কে যেতে চাই না। আমাদের শক্তি হচ্ছে বাংলাদেশের জনগন। সেজন্য বাংলাদেশের জনগণের কাছে আমরা ফিরে যেতে চাই। আমাদের ভালো মন্দ সব কিছু আমরা বাংলাদেশের মানুষের কাছে দিয়ে দিতে চাই। বাংলাদেশের মানুষের সিদ্ধান্তই আমাদের প্রথম এবং শেষ সিদ্ধান্ত।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আবু সাঈদের কাঙ্খিত প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার কাজে ইনশাআল্লাহ আগামী মাসের ১৩ তারিখ থেকে আমরা হাত দিবো। এই হোক আজকের নির্বাচনী জনসভার প্রতিশ্রুতি।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়, নিজের ভ্যাগ্যের পরিবর্তন চায়। মানুষ চায় কর্মসংস্থান। মানুষ চায় নিরাপদে রাস্তায় চলাফেরা করতে। মানুষ চায় নিরাপদে বাসায় ঘুমাবে। মানুষ চায় যে যার ব্যবসা-বাণিজ্য চাকরি সব করবে। সেই নিরাপদ ব্যবস্থা যদি তৈরী করতে হয় তাহলে আপনাদের সমর্থন লাগবে। আপনাদের সমর্থন থাকলে ইনশাআল্লাহ বিএনপি তা প্রতিষ্ঠিত করতে পরবে। কারণ বিএনপির অতীত ইতিহাস আছে আইনশৃঙ্খলা কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় । সেটি বিএনপি একমাত্র অতীততে করে দেখিয়েছে। বিএনপির অভিজ্ঞতা আছে বলেই বিএনপির পক্ষেই সম্ভব একমাত্র দেশের আইনশৃঙ্খলা সঠিক ভাবে শক্তভাবে নিয়ন্ত্রন করা। শক্ত ভাবে মানুষের নিরাপত্তা প্রণয়ন করা।’
তারেক রহমান বলেন, ‘ আগস্টের ৫ তারিখে যে পরিবর্তন হযেছে যেটি কোন রাজনৈতিক দলের দ্বারা হয় নাই। নির্দিষ্ট কোর রাজনৈতিক দলের দ্বারা হয় নাই। সেই পরিবর্তনে এই দেশের সাধারণ শ্রেণি পেশার মানুষের অংশগ্রহণ করেছিলো বলেই সেদিন সেই পরিবর্তন সূচিত হয়েছিলে।’
এসময় বিএনপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সিলেটে চা বাগান থেকে বিপুল পরিমাণ গুলিসহ এয়ারগান উদ্ধার
