আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি- বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, ভ্যালেন্টাইনস ডে। ঋতুরাজ বসন্তের শুরু দিনে বাঙালি হৃদয়ও যেন নতুন করে পবিত্র ভালোবাসার রঙে রাঙা হয়ে ওঠে। ফুলে ফুলে রঙিন প্রকৃতি।

দিনটি পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হলেও, ভ্যালেন্টাইনস ডে বাঙালির মনে পেয়েছে নিজস্ব আবেগের নতুন রূপ ও ব্যঞ্জনা। আজকের ভালোবাসা কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার জন্য নয়—মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান কিংবা বন্ধুর প্রতিও ভালোবাসা প্রকাশের দিন এটি। উপহার দেওয়া-নেওয়া, ছোট ছোট চমক, আন্তরিক শুভেচ্ছা—সব মিলিয়ে দিনটি হয়ে ওঠে অনন্য।

ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রি ও চিকিৎসক সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম হয় ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার ‘অপরাধে’ সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মৃত্যুদণ্ড দেন।

মৃত্যুর আগে তিনি তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি চিঠি লেখেন, যেখানে সই করেছিলেন—‘ফ্রম ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’। পরের বছর থেকে তার মেয়ে ও তার প্রিয়জন মিলে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণদিবস হিসেবে পালন শুরু করেন। ধীরে ধীরে সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের স্মৃতি ভালোবাসার প্রতীকে রূপ নেয় এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি রোমানরা ‘জুনো’ উৎসব পালন করত। রোমান পুরাণের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। সেদিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে নাচের সঙ্গী বেছে নিত। প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে, তখন ‘জুনো’ উৎসব ও সেন্ট ভ্যালেনটাইনের স্মৃতিকে একসূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে তা ইউরোপ পেরিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত একটি অনুভূতির নাম—যা ভাষা, দেশ, ধর্ম, বয়সের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষকে মানুষে যুক্ত করে। তাই আজকের দিনে ভালোবাসা হোক আরও উদার, আরও নির্মল, আরও গভীর।

HN
আরও পড়ুন