কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার সমান্তরালে এখন রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কে হচ্ছেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?

দলীয় একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির বর্ষীয়ান সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে বিবেচনায় রয়েছে। এ ছাড়া আলোচনায় রয়েছেন দলের আরেক প্রভাবশালী নেতা এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান। 

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর এই বিষয়ে চূড়ান্ত সংকেত পাওয়া যেতে পারে।

৭৯ বছর বয়সী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবার কুমিল্লা-১ আসন থেকে পঞ্চমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক ইতিপূর্বে জ্বালানি ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিএনপির বিভিন্ন জনসভায় আগে থেকেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে—বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমান হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং খন্দকার মোশাররফ হোসেন হবেন রাষ্ট্রপতি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং দলের প্রতি আনুগত্য তাকে এই পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য করে তুলেছে। ইদানীং তিনি নিজেকে কিছুটা প্রচারের আড়ালে রেখেছেন, যা তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে।

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় নজরুল ইসলাম খানের নাম থাকলেও দলের একটি বড় অংশ তাকে প্রধানমন্ত্রীর ‘রাজনৈতিক উপদেষ্টা’ হিসেবে দেখার পক্ষে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে তিনি অভাবনীয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের হাইকমান্ডের ওপরই নির্ভর করছে।

রাষ্ট্রপতি পদে এই পরিবর্তনের গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের ইঙ্গিতকে কেন্দ্র করে। 

গত বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, নতুন সরকার গঠনের পর তিনি স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দিতে আগ্রহী। বঙ্গভবন থেকে তার ছবি সরিয়ে ফেলার ঘটনায় তিনি অপমানিত বোধ করার কথাও জানিয়েছিলেন। ফলে সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও তিনি যে কোনো সময় সরে দাঁড়াতে পারেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রিসভা গঠনের পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন রাষ্ট্রপতির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। আপাতত দেশবাসীর নজর কালকের শপথ অনুষ্ঠানের দিকে।

DR/SN
আরও পড়ুন