নেপালে সাধারণ নির্বাচন

জেন-জি বিপ্লবের পর কার দখলে যাচ্ছে কাঠমান্ডুর সিংহাসন

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

হিমালয়কন্যা নেপালে নতুন রাজনৈতিক ভোরের প্রত্যাশায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ‘জেন-জি’ প্রজন্মের তরুণদের তীব্র আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির পতনের পর এই নির্বাচনকে দেশটির গণতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

১৯৯০ সালে রাজতন্ত্রের পতনের পর থেকে নেপাল ৩২টি ভিন্ন শাসনামল দেখলেও স্থায়ী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অধরাই থেকে গেছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান সুশীলা কার্কির অধীনে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে ধারণা করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ভারতের মনোহর পারিক্কর ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ এর গবেষক নীহার আর নায়েক জানান, এবারও একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত লড়াই হচ্ছে ঝাপা-৫ আসনে। সেখানে চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলির মুখোমুখি হয়েছেন ‘বালেন’ নামে পরিচিত ৩৫ বছর বয়সী সাবেক র‍্যাপার ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বলেন্দ্র শাহ। অলির একচ্ছত্র আধিপত্যের এই আসনে এবার জেন-জি ভোটারদের সমর্থন বালেনের দিকে থাকায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বর্ষীয়ান নেতার। বালেন শাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) এবার ক্ষমতার মূল নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নেপালের এই নির্বাচন প্রতিবেশী ভারত ও চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেপি শর্মা অলি বা পুষ্প কমল দাহাল প্রচণ্ড ক্ষমতায় এলে নেপাল প্রথাগতভাবেই চীনের দিকে ঝুঁকবে বলে মনে করা হয়। অন্যদিকে, বালেন শাহ নিজেকে ‘অখণ্ড নেপাল’ বা জাতীয়তাবাদী আদর্শের অনুসারী হিসেবে তুলে ধরলেও ভারতের জন্য তাকে নিয়ে উদ্বেগের কারণ রয়েছে। মেয়র থাকাকালীন তিনি তার দপ্তরে ভারতের কিছু অংশ সম্বলিত ‘সাংস্কৃতিক মানচিত্র’ টাঙিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিলেন।

বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এন. পি. সিং সতর্ক করেছেন যে, চীনঘনিষ্ঠ সরকার ক্ষমতায় এলে নেপাল ঋণের জালে জড়িয়ে পড়তে পারে। তবে ভারতের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল অশোক মেহতার মতে, ভৌগোলিক কারণেই নেপালের যেকোনো সরকারকে শেষ পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

নেপালের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১৬৫টি নির্বাচনি এলাকা থেকে ব্যালট বাক্স সংগ্রহের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এক কোটি ৮৯ লাখ ভোটারের রায়ে নেপাল কি পুরোনো দুর্নীতি আর অস্থিতিশীলতার আবর্তে ঘুরপাক খাবে, নাকি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে নতুন কোনো পথ খুঁজে পাবে তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

NB
আরও পড়ুন