ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর হাতে হওয়া অন্যায়, নির্যাতন ও নিপীড়নের বিচার নিশ্চিত করতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছেন দেশটির শেষ শাহর নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভি। ভবিষ্যতে ইরানে একটি ‘সত্য অনুসন্ধান কমিশন’ ও বিশেষ আদালত গঠনের রূপরেখা তৈরির লক্ষ্যে তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের ‘ট্রানজিশনাল জাস্টিস কমিটি’ ঘোষণা করেছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) এক বিবৃতিতে রেজা পাহলভি জানান, এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন শান্তিতে নোবেলজয়ী বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী শিরিন এবাদি। বার্তাসংস্থা এএফপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রেজা পাহলভি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, এই দলের মূল কাজ হবে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের হাতে নির্যাতিত ও ভুক্তভোগীদের জন্য ন্যায়বিচারের আইনি কাঠামো বা রেগুলেশন তৈরি করা। চার প্রজন্মের অভিজ্ঞ ইরানি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠিত হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সদস্যরা হলেন— ডাচ-ইরানি আইন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আফশিন এলিয়ান, প্রখ্যাত মানবাধিকার কর্মী ইরাজ মেসদাঘি এবং চিকিৎসক লায়লা বাহমানি।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রেজা পাহলভি বর্তমানে ইরানের বাইরে থাকা অন্যতম প্রভাবশালী বিরোধী নেতা। গত জানুয়ারি মাসে ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল, তাতে পাহলভির আহ্বান বড় ভূমিকা রেখেছিল। ওই আন্দোলনে অনেক বিক্ষোভকারী রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার পক্ষে স্লোগান দিয়েছিলেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই গণবিক্ষোভ দমনে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর ক্র্যাকডাউনে প্রায় ৩০ হাজার ইরানি প্রাণ হারিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে পাহলভির এই নতুন উদ্যোগকে ইরানের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন অনিবার্য: রেজা পাহলভি
