রোজ বৃষ্টি হলেও যে কারণে কমছে না গরম

আপডেট : ১৬ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরেই চলছে রোদ ও বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা। সকালের দিকে থেমে থেমে বৃষ্টি কিংবা আকাশ মেঘলা থাকলেও কমছে না গরমের তীব্রতা। বরং এক ধরনের ভ্যাপসা ও অস্বস্তিকর আবহাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও কাজকর্ম কঠিন হয়ে উঠেছে। স্বাভাবিক নিয়মে বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কমার কথা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বৃষ্টির মধ্যেও গরম না কমার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু আবহাওয়াগত কারণ রয়েছে। ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃষ্টির পরেও দ্রুত হ্রাস পায় না। বিশেষ করে শহর এলাকার কংক্রিটের কাঠামো এবং মাটি বৃষ্টির পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যার ফলে জমে থাকা সুপ্ত তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিবেশকে আরও তপ্ত করে তোলে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, এর পাশাপাশি বর্তমানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অত্যধিক বেশি। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে মানুষের শরীর থেকে ঘাম সহজে শুকাতে পারে না, যার ফলে থার্মোমিটারের প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও অনেক বেশি গরম অনুভূত হয়। বর্ষাকালের মেঘ ভূপৃষ্ঠের খুব কাছাকাছি থাকায় এবং একটানা দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হয়ে স্বল্প সময়ের জন্য বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টি হওয়ায় তা দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয়ে বাতাসে মিশে যাচ্ছে, যা আর্দ্রতা ও অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আবহাওয়াবিদেদের মতে, এ বছর স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অন্তত এক সপ্তাহ দেরিতে দেশে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করেছে। এই বায়ু সারা দেশে বিস্তৃত হলেও এখনো পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে ওঠেনি, যার কারণে কাঙ্ক্ষিত ও ধারাবাহিক বৃষ্টির দেখা মিলছে না। একই সময়ে দক্ষিণ দিক এবং বঙ্গোপসাগর হয়ে প্রচুর পরিমাণে আর্দ্র বায়ু দেশে প্রবেশ করায় বেড়েছে ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে দেশের সুন্দরবনসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি পশ্চিমা লঘুচাপ অবস্থান করছে। এই লঘুচাপের প্রভাবে ওই সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে বাতাসের আর্দ্রতা এবং ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি থাকছে।

আবহাওয়াবিদররা মনে করেন, এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। দেশের অধিকাংশ এলাকায় টানা কয়েক দিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হলে পরিবেশের তাপমাত্রা পুরোপুরি কমবে এবং স্বস্তি ফিরবে। অন্যথায় রোদ-বৃষ্টির এই পালাবদলের মধ্যে ভ্যাপসা গরম অব্যাহত থাকবে। 

তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর একটি দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে সতর্ক করেছে যে, এ বছর সামগ্রিকভাবে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পরিমাণ কম হতে পারে এবং গরমের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, গত শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পাবনার ঈশ্বরদীতে, যা ছিল ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

SN
আরও পড়ুন