যুদ্ধ থামাতে ইসলামাবাদে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি বৈঠক

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২৬, ১১:০০ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে বড় ধরণের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। যুদ্ধের ইতি টানতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে চায় ইসলামাবাদ। এরই অংশ হিসেবে পাকিস্তান তার রাজধানী ইসলামাবাদকে এই দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার ‘ভেন্যু’ বা স্থান হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত রোববার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ সোমবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিবিড় আলাপ করেছেন। এই আলোচনার পরই ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি থেকে সাময়িকভাবে সরে আসার ঘোষণা দেন।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার প্রেক্ষিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে ইরান সরাসরি আলোচনার খবর অস্বীকার করলেও আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতার কথা স্বীকার করেছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্বে পাকিস্তান এক অনন্য অবস্থানে রয়েছে। এর কারণগুলো হলো:
১. ইরানি জনগণের প্রতি পাকিস্তানের গভীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক টান রয়েছে।
২. ইরানের বাইরে পাকিস্তানই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ।
৩. পাকিস্তানের মাটিতে কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নেই, যা তাকে তেহরানের চোখে ‘নিরপেক্ষ’ করে তুলেছে।
৪. একই সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তান সরকারের উষ্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে।
৫. গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি হওয়ায় উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপরও ইসলামাবাদের প্রভাব রয়েছে।

পাকিস্তানের পাশাপাশি তুরস্ক, মিশর এবং কাতারও এই সংঘাত নিরসনে কাজ করছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি ইতোমধ্যে নিজ নিজ প্রতিপক্ষ ও ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

এই গোপন কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে হোয়াইট হাউস সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ‘এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা। যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে এই বিষয়ে দরকষাকষি করতে চায় না।’

চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক সানাম ওয়াকিল মনে করেন, মধ্যস্থতা চললেও দ্রুত যুদ্ধ থামার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না যে যুদ্ধ শেষ হওয়ার কোনো সংকেত এটি। দুপক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। ট্রাম্প এই সংকট থেকে সহজে সরে আসতে পারবেন না এবং ইরানও পিছু হঠবে না কারণ এটি তাদের টিকে থাকার লড়াই।’

তবুও, চার সপ্তাহে পদার্পণ করা এই ভয়াবহ যুদ্ধ থামাতে ইসলামাবাদের এই প্রস্তাবকে আন্তর্জাতিক মহলে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

DR/SN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত