বাংলাদেশে হার্ট ফাউন্ডেশনকে একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো: নূরুল ইসলাম বলেছেন, হৃদরোগ চিকিৎসা ও জনসচেতনতা তৈরিতে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে হৃদরোগ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সেবার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটির অবদান উল্লেখযোগ্য।
তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হার্ট নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যায়। তাই হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে।’
রোববার (১৭ মে) বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস উপলক্ষে ‘একসাথে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করি, নীরব ঘাতক জয় করি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত গণমুখী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হৃদরোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি মানুষ হৃদরোগে মারা যায়। এটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ঘাতক ব্যাধি।
মো: নূরুল ইসলাম বলেন, ‘একজন সুস্থ মানুষ হেঁটে যাচ্ছেন, মুহূর্তের মধ্যেই তার হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। মানুষের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলো হার্ট, যা মানুষের নিয়ন্ত্রণে নয়, মহান আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই হাসপাতালের জন্মের সাথে আমার একটি সম্পর্ক রয়েছে। শুরুতে এখানে কোনো ভবন ছিল না, ঘাসের ওপর বসে চিকিৎসাসেবা দেয়া হতো।’
স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘বেছে বেছে খাবার খাওয়া খুব জরুরি। তেল ও লবণ কম খাওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রত্যেক মানুষের নিয়মিত কিছু না কিছু ব্যায়াম করা প্রয়োজন।’
বর্তমানে দেশে অতিরিক্ত পেস্টিসাইড, রাসায়নিক সার ও হাইব্রিড খাদ্যের ব্যবহারের কারণে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে করে তিনি বলেন, এখন ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যেও গুরুতর কিডনি সমস্যার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
খাদ্যে ভেজাল প্রসঙ্গে নূরুল ইসলাম বলেন, মাছ, মুরগির গোশত ও শাকসবজিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জেনেশুনে নিম্নমানের ও ক্ষতিকর খাদ্যপণ্য তৈরি করছেন, যা তারা নিজেদের সন্তানদেরকেও খাওয়ান না।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম প্রধান কারণ। প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে অতিরিক্ত লবণের ব্যবহার কমাতে কার্যকর নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
হার্ট ফাউন্ডেশন দাবি করেছে, হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে ফাউন্ডেশন দেশব্যাপী নানা উদ্যোগ পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ হাইপারটেনশন কন্ট্রোল ইনিশিয়েটিভের (বিএইচসিআই) আওতায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি মানুষের রক্তচাপ পরীক্ষা করেছে এবং ১০ লাখের বেশি উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস রোগীকে চিকিৎসাসেবার আওতায় এনেছে।
ফাউন্ডেশনের দাবি, বর্তমানে নিবন্ধিত রোগীদের ৫৯ শতাংশের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এছাড়া ৩২৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে SIMPLE ডিজিটাল অ্যাপ চালুর মাধ্যমে রোগী ব্যবস্থাপনা ও ফলো-আপ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বিএইচসিআই মডেলকে ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন হাইপারটেনশন ২০২৫’-এ কার্যকর ও সম্প্রসারণযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা বিষয়ে জনগণ ও চিকিৎসকদের মধ্যে তথ্য ছড়িয়ে দিতে ওয়ার্ল্ড হাইপারটেনশন লিগ ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব হাইপারটেনশনের উদ্যোগে প্রতি বছর ১৭ মে বিশ্ব উচ্চ রক্তচাপ দিবস পালিত হয়। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক খন্দকার আব্দুল আউয়াল (রিজভী)।
হাম ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ৬ শিশুর মৃত্যু
জনস্বাস্থ্যকে অবহেলার ফলেই বর্তমান হাম সংকট
জুনের শুরুতে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে হাম
ভয় ধরাচ্ছে হান্টাভাইরাস, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা