ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার অফিসিয়াল ইংরেজি ভাষার এক্স অ্যাকাউন্টে ব্লু টিক পেয়েছেন। যদিও ইলন মাস্ক মালিকানাধীন এই প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ব্যক্তিদের জন্য ব্লু টিক পাওয়া নিয়মবহির্ভূত।
সিএনবিসির খবরে বলা হয়, এর আগে মার্চ মাসে টেক ট্রান্সপারেন্সি প্রজেক্ট (টিটিপি) বিষয়টি তুলে ধরার পর খামেনির ফার্সি ভাষার অ্যাকাউন্ট থেকে ব্লু টিকমার্ক সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে তার ইংরেজি ভাষার এক্স প্রোফাইলে আবারও ব্লু টিক দেখা যাচ্ছে।
খামেনির ইংরেজি অ্যাকাউন্টে ফলোয়ার সংখ্যা ফার্সি অ্যাকাউন্টের চেয়েও বেশি—যা প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার। এই অ্যাকাউন্টটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাত সম্পর্কিত পোস্ট ছড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রোফাইল অনুযায়ী, অ্যাকাউন্টটি মার্চ মাসে খোলা হয়েছে এবং এর অবস্থান ইরান দেখানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন মোজতবা খামেনি।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর তার সঙ্গে লেনদেন করা নিষিদ্ধ।
খামেনি তার পিতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের এক হামলায় তার পিতা নিহত হন, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তোলে।
এক্স প্ল্যাটফর্মে ব্লু টিকমার্ক কেবলমাত্র পেইড এক্স প্রিমিয়াম বা প্রিমিয়াম প্লাস সাবস্ক্রাইবারদের জন্য বরাদ্দ; যা দীর্ঘ পোস্ট লেখা, বড় ভিডিও আপলোড এবং বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের সুযোগসহ বিভিন্ন সুবিধা দেয়।
কম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব ব্যক্তি বা সত্তার সঙ্গে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আইনের কারণে লেনদেন করা নিষিদ্ধ, তারা এক্স প্রিমিয়াম কিনতে পারবেন না। তবে এই নীতিমালা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হয়, তা স্পষ্ট নয়।
এক্স মাঝে মাঝে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বিনামূল্যে ধূসর টিকমার্কও প্রদান করে, যা আগে খামেনির পিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি টিটিপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিভিন্ন কর্মকর্তা, সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের নামে থাকা একাধিক এক্স অ্যাকাউন্টে ব্লু টিকমার্ক রয়েছে, যা নির্দেশ করে তারা এক্স প্রিমিয়াম সেবার গ্রাহক।
টিটিপি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, যেহেতু এক্স প্রিমিয়াম পেতে অর্থ প্রদান করতে হয়, তাই এই ইরানি ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে প্ল্যাটফর্মটি রাজস্ব পেয়েছে—যা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের সম্ভাবনা তৈরি করে।
এক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কম্পানি এক্সএআই স্পেসএক্সের মালিকানায় রয়েছে। তারা এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগও এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে ইরানের হামলা
