উত্তর কোরিয়া নতুন ও উন্নত প্রযুক্তির একটি রকেট ইঞ্জিনের সফল ‘গ্রাউন্ড টেস্ট’ সম্পন্ন করেছে দেশটির নেতা কিম জং উন। রোববার (২৯ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এটিকে কৌশলগত সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম জং উন স্বয়ং উপস্থিত থেকে এই পরীক্ষা তদারকি করেছেন।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপটি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার আধুনিকায়নের একটি অংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়া তাদের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উৎক্ষেপণের জন্য কঠিন-জ্বালানিযুক্ত (Solid-fuel) রকেট ইঞ্জিন ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এই ধরনের ইঞ্জিন ব্যবহারের ফলে উৎক্ষেপণের আগে দীর্ঘ প্রস্তুতির প্রয়োজন হয় না এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া সম্ভব হয়।
কেসিএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, এই গ্রাউন্ড জেট টেস্টে আধুনিক ‘কম্পোজিট কার্বন ফাইবার’ উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। ইঞ্জিনটির সর্বোচ্চ থ্রাস্ট বা উৎক্ষেপণ শক্তি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ কিলোটন। গ্রাউন্ড টেস্টের মাধ্যমে মূলত রকেটের ইঞ্জিন ও জ্বালানি স্থির অবস্থায় রেখে সেটির কার্যক্ষমতা যাচাই করা হয়।
তবে, পরীক্ষাটি ঠিক কবে এবং কোথায় চালানো হয়েছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পিয়ংইয়ং।
সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে কিম জং উন নিজের দেশকে একটি অপরাজেয় পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রেক্ষাপট টেনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বজুড়ে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ ও আগ্রাসনের’ মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই সাম্প্রতিক সামরিক মহড়া ও ইঞ্জিন পরীক্ষা মূলত ওয়াশিংটনের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
জাহান্নামে স্বাগতম: মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে ইরান
