ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ভাষণের পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইসরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘বিধ্বংসী’ পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। হামলা প্রতিহত করতে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (আয়রন ডোম) সক্রিয় রয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা তেল আবিব এবং ইলাত অঞ্চলের ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শিল্প স্থাপনাগুলোতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় ইসরায়েলি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সামরিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
হামলার মাঝেই এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে একটি আবেগঘন ‘খোলা চিঠি’ লিখেছেন। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত ওই চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ কি আদৌ ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করছে?
চিঠিতে পেজেশকিয়ান মার্কিন নাগরিকদের সরাসরি সম্বোধন করে বলেন, ‘এই যুদ্ধের মাধ্যমে আমেরিকার জনগণের কোন উদ্দেশ্যটি সফল হচ্ছে? আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনোই কোনো আগ্রাসন বা উপনিবেশবাদের পথ বেছে নেয়নি।’ তিনি দাবি করেন, ইরানকে একটি বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা মূলত ক্ষমতাধরদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক লালসার ফল। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে তিনি বর্তমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে ইরানের ‘বৈধ আত্মরক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পেজেশকিয়ানের এই খোলা চিঠি মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর মার্কিন অভ্যন্তরীণ চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। তবে রণক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা ও রয়টার্স।
ইরান যুদ্ধে সংকটের মুখে ভারতের কনডম শিল্প
আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে ৭০ লাখ ইরানি প্রস্তুত
