ইউক্রেন যুদ্ধ

রাশিয়ার অগ্রযাত্রা স্থবির, সংকটে জেলেনস্কি

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

দীর্ঘ আড়াই বছর পর ইউক্রেন ফ্রন্টলাইনে রাশিয়ার সামরিক অগ্রযাত্রা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ (ISW)-এর তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে রুশ বাহিনী পুরো ফ্রন্টলাইন জুড়ে মাত্র ২৩ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করতে পেরেছে, যা ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইউক্রেনীয় বাহিনীর পাল্টা আক্রমণ এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই রুশ বাহিনীর অগ্রযাত্রা ধীর হতে শুরু করে। জানুয়ারিতে ৩১৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করলেও মার্চে তা প্রায় থেমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে রাশিয়ার নিজস্ব কিছু সিদ্ধান্তকে দায়ী করছেন।

বিশেষ করে ইউক্রেন সীমান্তে স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং সেনাদের মধ্যে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’ ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করায় রুশ বাহিনীর যোগাযোগ ও সমন্বয় ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ফ্রন্টলাইনে ইউক্রেনের সফল পাল্টা আক্রমণে রাশিয়া কিছু অঞ্চল হারিয়েছে।

অগ্রযাত্রা থমকে গেলেও আকাশপথে হামলা আরও তীব্রতর করেছে রাশিয়া। গত শুক্রবার রাশিয়া ৫০০টিরও বেশি ড্রোন এবং কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দিনের বেলায় ইউক্রেনজুড়ে ভয়াবহ হামলা চালায়। এই হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন।

অপরদিকে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বাল্টিক সাগরীয় তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘উস্ত-লুগা’ এবং ‘প্রিমোরস্ক’ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে রাশিয়ার ডিজেল ও তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা দেশটির যুদ্ধ তহবিলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও সুখকর নয়। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দেশ বর্তমানে তীব্র অর্থ সংকটে ভুগছে। এ বছর ইউক্রেনের ৫২ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক অর্থায়ন প্রয়োজন। কিন্তু প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ও সংসদীয় জটিলতার কারণে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের তহবিল আটকে আছে। জেলেনস্কি আগামী সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিলগুলো পাস করার জন্য আইনপ্রণেতাদের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বাজেট সংকট কাটিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের পথ সুগম হয়। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

SN
আরও পড়ুন