উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির মূল ভিত্তিগুলো বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত অন্তত এক ডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঘাঁটি বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় সেগুলো এখন মার্কিন বাহিনীর জন্য উপকারের চেয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকিই বেশি তৈরি করছে।

ওয়াশিংটনের ‘আরব সেন্টার’-এর বার্ষিক সম্মেলনে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক লিঞ্চ জানান, গত এক মাসে ইরান পরিকল্পিতভাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের অবকাঠামোগুলোকে অকেজো করে দিয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরটি বর্তমানে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রায় ৯ হাজার সেনার আবাসস্থল এই ঘাঁটিটি এখন এতটাই অরক্ষিত যে, সেখানে পূর্ণমাত্রায় কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব।

ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আড়াল করতে পেন্টাগন এবং সংশ্লিষ্ট উপসাগরীয় দেশগুলো (সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও ওমান) বর্তমানে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখছে। এসব ঘাঁটিতে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আকাশসীমার কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রচারেও কড়া নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, নিজেদের সামরিক দুর্বলতা গোপন রাখতেই ট্রাম্প প্রশাসন এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক দশকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক আধিপত্য ছিল, ইরানের এই হামলার পর তা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। যে ঘাঁটিগুলো একসময় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিত, সেগুলোই এখন আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু বা ‘ম্যাগনেট’-এ পরিণত হয়েছে। ফলে এই অঞ্চলে মার্কিন শক্তির ভারসাম্যে এক গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই

YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত