মালয়েশিয়াজুড়ে ইমিগ্রেশন সিস্টেমে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী ও সীমান্ত পারাপারকারী কর্মজীবী মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ভোরে কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই অচলাবস্থার কারণে বিশেষ করে জোহর-সিঙ্গাপুর স্থলসীমান্তে দীর্ঘ সারি, তীব্র যানজট এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের কম্পিউটারভিত্তিক সব সিস্টেম সম্পূর্ণ অচল ছিল।
ফলে ডিজিটাল ব্যবস্থার পরিবর্তে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের হাতে-কলমে (ম্যানুয়ালি) পাসপোর্ট যাচাই ও যাত্রী ছাড়পত্র দিতে হয়।
জোহর সীমান্তে তীব্র যানজট ও বিশৃঙ্খলা
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি দেখা দেয় জোহরের দুটি প্রধান স্থল সীমান্ত চেকপয়েন্টে—সুলতান ইস্কান্দার বিল্ডিং (বিএসআই) এবং সুলতান আবু বকর কমপ্লেক্স (কেএসএবি)। প্রতিদিন হাজার হাজার মালয়েশিয়ান নাগরিক সিঙ্গাপুরে নিজেদের কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য এই দুটি রুট ব্যবহার করেন।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান:
"ভোরের সময়টি ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত (পিক আওয়ার)। সে সময় বিপুলসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ সিঙ্গাপুরে প্রবেশের জন্য সীমান্তে ভিড় করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইমিগ্রেশন বিভাগের সব কর্মীকে ম্যানুয়াল কাউন্টারে ডিউটি করতে হয়েছে। শুধু অটো-গেটই নয়, ফেসিয়াল রিকগনিশন (মুখাবয়ব শনাক্তকরণ) ব্যবস্থাও কাজ করছিল না।"
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাস টার্মিনাল, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহনের লেনে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করতে হয়।
এক মাসে দ্বিতীয়বার সিস্টেম বিভ্রাট
চলতি মাসে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের ইমিগ্রেশন সিস্টেম বিপর্যয়ের ঘটনা। এর আগে গত ২৩ এপ্রিলও একই ধরনের কারিগরি সমস্যার কারণে কয়েক হাজার যাত্রী প্রায় দুই ঘণ্টা সীমান্তে আটকে ছিলেন।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান জানান, সকাল ৫টা থেকে ৮টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত ‘মাইআইএমএমএস’ (MyIMMs) ডাটা সেন্টারে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এই বিভ্রাট ঘটে। পরে মেরামত কাজ শেষ হলে সিস্টেম আবার সচল হয়।
তিনি পরিষ্কার করে বলেন, "সিস্টেমটি হ্যাক হয়নি। MyIMMs প্রায় ৩০ বছর পুরোনো একটি ব্যবস্থা। পুরোনো হওয়ার কারণেই মাঝে-মধ্যেই এমন কারিগরি সমস্যা দেখা দিচ্ছে।"
২০২৮ সালের মধ্যে নতুন ডিজিটাল সিস্টেম 'NIISe'
মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে, পুরোনো এই ব্যবস্থার পরিবর্তে ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ নতুন ‘ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম’ (NIISe) চালু করা হবে। এই আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাসপোর্ট যাচাই, ভিসা পরীক্ষা এবং ভ্রমণকারীদের তথ্য একই সিস্টেমের আওতায় আনা হবে।
তবে নতুন ব্যবস্থা পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত এমন সমস্যা আবারও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাকারিয়া শাবান।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী বছর চালু হতে যাওয়া জোহর বাহরু-সিঙ্গাপুর র্যাপিড ট্রানজিট সিস্টেম (RTS)-এর আগেই নতুন ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার ঝুঁকি মোকাবিলা পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে ঠিকাদারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী যাত্রীরা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, ইমিগ্রেশন পয়েন্টগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শত শত যাত্রী এবং সীমান্ত এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট।
সিঙ্গাপুরগামী মালয়েশিয়ান কর্মজীবী এম সাথিশ জানান, সাধারণত যেখানে ইমিগ্রেশন পার হতে ১০ মিনিটের কম সময় লাগে, সেখানে আজ তার প্রায় ৪০ মিনিট লেগেছে।
অন্যদিকে হিসাবরক্ষক সো কিয়াও শি বলেন, "কিউআর কোড স্ক্যানার ও অটোমেটিক পাসপোর্ট গেট কোনোটিই কাজ করছিল না। প্রচণ্ড গরম আর ভিড়ের মধ্যে ম্যানুয়াল কাউন্টারে দাঁড়িয়ে থাকাটা ছিল চরম হতাশাজনক।"
ট্রাম্পের ১.৮ বিলিয়ন ডলারের তহবিল মার্কিন আদালতে আটকা