ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদদের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (৭ জুন)স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন শুরু হয়।
সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, অধিবেশনের প্রথম দিনেই স্পিকারের শোক প্রস্তাবের পর সর্বসম্মতিক্রমে তা গৃহীত হয়। প্রয়াতদের সম্মানে সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন এবং পরে সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন।
শোক প্রস্তাবে বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ এবং প্রখ্যাত বামপন্থি তাত্ত্বিক, ইতিহাসবিদ ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমরকে। একই সাথে মিরপুরের পল্লবী আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার, নরসিংদীর ফাহিমা মিম, আমিনা এবং তাবাসসুম আক্তারের নির্মম মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে সংসদ। এই চার শিশু অত্যন্ত পাশবিকভাবে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছিল। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী অধ্যাপক দিলারা হাফিজের মৃত্যুতেও সংসদ গভীর শোক প্রকাশ করে।
রাজনীতিক ও বিশিষ্টজনদের প্রতি শ্রদ্ধা
সংসদে শোক প্রকাশ করা অন্যান্য বিশিষ্ট রাজনীতিকদের মধ্যে রয়েছেন: আওয়ামী লীগ ও সাবেক মন্ত্রী: সাবেক মন্ত্রী শফিক আহমেদ, সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ, দবিরুল ইসলাম, এ বি এম আনোয়ারুল হক এবং মোসলেম উদ্দিন।
বিএনপি ও অন্যান্য দল: বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা, অধ্যাপক এম এ মান্নান, সাবেক সংসদ সদস্য দেওয়ান শামসুল আবেদিন, জি এম ফজলুল হক, এবং দশম সংসদের স্বতন্ত্র সদস্য আবদুল মতিন।
জাতীয় পার্টি ও সিপিবি: জাতীয় পার্টির সৈয়দ মো. কায়সার, আবু নূর মোহাম্মদ বাহাউল হক, গোলাম সারোয়ার মিলন এবং সিপিবির মো. শামসুদ্দোহা।
এছাড়া জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ, কবি হেলাল হাফিজ, ছায়ানটের সভাপতি সনজীদা খাতুন, সংগীতশিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী, ডালিয়া নওশিন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মা বেগম জেবুন্নেসা, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, বৌদ্ধ ভিক্ষু ড. জ্ঞানশ্রী মহাথেরো এবং সাংবাদিক গাজী রুহুল আমিনের মৃত্যুতে সংসদ যৌথভাবে শোক প্রকাশ করে।