কাপ্তাই হ্রদে পানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধস

আপডেট : ১২ জুন ২০২৬, ১২:২৬ পিএম

তীব্র গরম ও দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টির কারণে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাধার এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে শুরু করে নৌ-যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, কাপ্তাই হ্রদের স্বাভাবিক পানির স্তর ১০৯ এমএসএল (মিন সি লেভেল) থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৭৬ এমএসএলে। পানির এই তীব্র সংকটের কারণে ২৪২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটি বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে মাত্র দুটি ইউনিট চালু থাকায় কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, যা জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।

হ্রদের পানি কমে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাঙামাটির নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপরও। বিশেষ করে বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল এবং জুরাছড়ি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের নৌ-যোগাযোগ প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় বড় লঞ্চ ও যাত্রীবাহী নৌযানগুলো অনেক ঘাটে ভিড়তে পারছে না। ফলে যাত্রীদের একাধিক ছোট নৌকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ হওয়ার পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এদিকে হ্রদের বিভিন্ন এলাকায় ডুবোচর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতেও এর প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বেশ কিছু পণ্যের দাম ইতোমধ্যে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে কাপ্তাই হ্রদের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এর পানি ধারণক্ষমতা ক্রমশ কমছে। ফলে প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে একই ধরনের সংকট দেখা দিচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, নৌ-যোগাযোগ এবং হ্রদনির্ভর জনজীবন বারবার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি সংকট নিরসনে দ্রুত ভারী বৃষ্টিপাতের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের আশা, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে হ্রদের পানির স্তর বৃদ্ধি পাবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, গত দুই মাস ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে তিনটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুটি ইউনিট দিয়ে মাত্র ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। তবে সব ইউনিট একসঙ্গে চালু থাকলে প্রায় ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

MCH/YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত