বাংলাদেশকে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতার আশ্বাস দক্ষিণ কোরিয়ার

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

বাংলাদেশের দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত কিম জি-জুন। 

বুধবার (১৭ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদন শিল্প এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্থিতিশীল বিনিয়োগ পরিবেশের প্রশংসা করে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্যোক্তারা বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে দেখছেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বৈঠকে উভয়পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সম্পর্ক আগামী দিনে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এই সাক্ষাৎকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি ও শিল্প অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ ও দক্ষ জনশক্তি দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে।

এভাবে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্ক শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং প্রযুক্তি, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে।

Attr/AHA
আরও পড়ুন