নবম পে স্কেল: মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের ভাতা পাঁচ গুণ বাড়ছে

আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ০৮:২৭ পিএম

দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এ সুবিধার আওতায় থাকবেন ১১ থেকে ২০ গ্রেডের সরকারি কর্মচারী এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। 

নবম জাতীয় পে স্কেল-২০২৬ এ সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে মাঠপর্যায়ের কর্মচারী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য। তাদের মাসিক টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে। অর্থাৎ ভাতা বাড়ছে পাঁচ গুণ।

জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমিশনের মতে, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে ২০০ টাকার ভাতা কার্যত অপ্রতুল ছিল। কর্মচারীদের পুষ্টি ও কর্মদক্ষতা নিশ্চিত করতে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন এ ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।

নতুন কাঠামোয় শুধু টিফিন ভাতাই নয়, মূল বেতন ও অন্যান্য ভাতাতেও বড় পরিবর্তন আসছে। ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। বৈশাখী ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। সন্তানদের শিক্ষা ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী সন্তানদের জন্য মাসিক ২ হাজার টাকা অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের কর্মচারী ও শিক্ষকরা এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বর্তমান বাজারে দৈনন্দিন ব্যয় সামাল দিতে নতুন ভাতা কার্যকর হলে কিছুটা স্বস্তি মিলবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

এই উদ্যোগকে অনেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা মনে করছেন, নতুন কাঠামো তাদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Attr/AHA
আরও পড়ুন