এইচপিভি টিকার সাফল্য

ইংল্যান্ডে তরুণীদের জরায়ুমুখ ক্যানসারে মৃত্যু এখন শূন্যের কোঠায় 

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি (HPV) টিকার কল্যাণে ইংল্যান্ডে তরুণীদের জরায়ুমুখ ক্যানসারে মৃত্যুর হার অভূতপূর্বভাবে কমেছে। বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী 'ল্যানসেট'-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, টিকা কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ফলে ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যবর্তী পাঁচ বছরে দেশটিতে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী কোনো নারী জরায়ুমুখ ক্যানসারে মারা যাননি। এই ধরনের পরিসংখ্যানে এটিই প্রথম ঘটনা।

যুক্তরাজ্যে নারীদের ক্যানসারের মধ্যে ১৪তম অবস্থানে থাকা এই রোগের ৯৯ শতাংশ সংক্রমণের জন্যই দায়ী এইচপিভি ভাইরাস। ২০০৮ সাল থেকে সেখানে স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের এই প্রতিষেধক দেওয়া শুরু হয়। ক্যানসার রিসার্চ ইউকে-এর অর্থায়নে পরিচালিত এই নতুন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ১২ বা ১৩ বছর বয়সে যারা এই টিকা নিয়েছেন, ৩০ বছর বয়সের আগে তাদের জরায়ুমুখ ক্যানসারে মৃত্যুর ঝুঁকি এখন শূন্যের কাছাকাছি।

লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ক্যানসার মহামারিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ পিটার সাসিয়েনি এই সাফল্যকে একটি অবিশ্বাস্য মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, মাত্র এক ডোজ টিকা একটি নির্দিষ্ট ক্যানসারকে প্রায় নির্মূল করে দিতে পারে এটি একটি বিরাট সাফল্য। টিকা নেওয়া প্রজন্মের বয়স যত বাড়বে, জীবন বাঁচানোর এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে। ২০১৯ সাল থেকে দেশটিতে ছেলেদেরও এই টিকা দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের নিজস্ব কিছু ক্যানসার প্রতিরোধের পাশাপাশি মেয়েদের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকিও কমাচ্ছে।

যুক্তরাজ্য সরকার ২০৪০ সালের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসারকে পুরোপুরি নির্মূল করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে টিকা নেওয়ার হার বর্তমানে ৭৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত ৯০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম।

টিকাদানের এই হার ধরে রাখতে এবং পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়গুলোর কাছে পৌঁছাতে স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ প্রচার ও কমিউনিটি ফার্মেসিগুলোর সহায়তা নিচ্ছে। একই সাথে, ২৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী নারীদের নিয়মিত স্ক্রিনিং করানোর পাশাপাশি যারা পরীক্ষা করাতে পারছেন না, তাদের কাছে 'এইচপিভি সেলফ-টেস্টিং কিট' পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

SN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত