বাড়ছে নদ-নদীর পানি, বন্যার আশঙ্কা

আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের অরুণাচল ও মেঘালয়সহ উজান রাজ্যে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চল ও সিলেট বিভাগের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে উত্তরের চার জেলাসহ সিলেট অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন জানিয়েছেন, ভারী বর্ষণের ফলে উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও বিকেল ৩টায় তা ১৫ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছিল, যা এর আগের দিন ছিল ৪১ সেন্টিমিটার নিচে। নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে লালমনিরহাটের তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি ইতোমধ্যে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

সিলেটের নিম্নাঞ্চলেও আকস্মিক বন্যার তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার জানিয়েছেন, সিলেটে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১৪০.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। এরপর শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ৩৫.২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী তিন দিন সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার নদীগুলোর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার বড় ঝুঁকি রয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের বুলেটিনে আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে আরও অন্তত তিন দিন ভারী থেকে মাঝারি ধরনের বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেটসহ ১০টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

SN
আরও পড়ুন