ইরানের জনগণকে বিক্ষোভে উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে: পেজেশকিয়ান

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৭ পিএম

বিদেশি চাপের কারণে ইরানের জনগণকে বিক্ষোভে উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে একই সময়ে এক বিশ্লেষক সতর্ক করে বলেছেন, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও খাদ্যসংকটের কারণে ইরানের অর্থনীতি বিপজ্জনক মোড়ে পৌঁছে গেছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশটি নানা অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হলেও শত্রুপক্ষের চাপ সত্ত্বেও ইরান শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভির বরাতে জানা যায়, এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, 'শত্রুরা জনগণকে বিক্ষোভে উসকে দিতে চাপ সৃষ্টি করছে।'

তবে ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের (এফডিডি) সহযোগী গবেষক মিয়াদ মালেকি ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, ইরান ইতোমধ্যেই অর্থনৈতিক সংকটের 'বিপজ্জনক সীমায়' প্রবেশ করেছে।

তার ভাষ্য, প্রকৃত ভাঙন কোনো একক নাটকীয় ঘটনার মাধ্যমে নয়, বরং ধীরে ধীরে মুদ্রার পতন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের মতো খাদ্য মূল্যস্ফীতি এবং মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য চুরির মতো ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে।

ইরানের দৈনিক জাহান-এ সানাত-এর এক অনুসন্ধানে সুপারশপ থেকে রুটি, পনির, মাখন, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য চুরির ঘটনা বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এক সুপারশপ কর্মী জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চুরির পেছনে চরম দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক চাপ কাজ করছে।

মালেকির মতে, ২০২৬ সালের মার্চে ইরানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১১২ থেকে ১১৪ শতাংশের মধ্যে পৌঁছায়। একই সময়ে রুটি ও শস্যজাত পণ্যের দাম বেড়েছে প্রায় ১৪০ শতাংশ এবং দুধ, পনির ও ডিমের দাম বেড়েছে প্রায় ১১৭ শতাংশ।

তিনি বলেন, ইরানের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তগুলো আদর্শগত নয়, বরং অর্থনৈতিক সংকট থেকেই তৈরি হয়েছে। ২০১৯ সালে জ্বালানির দাম বাড়ানোর পর দেশজুড়ে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটির উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের মুদ্রা রিয়ালের অবমূল্যায়ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর ছিল প্রায় ১৫ লাখ, যা জুলাইয়ে বেড়ে প্রায় ১৯ লাখ ৪০ হাজার রিয়ালে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষ হলে বাজারে চাহিদা স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসবে, আর তখন মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে খাদ্য চুরির বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো সরকার পতনের প্রমাণ নয়, বরং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ভয়াবহভাবে কমে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। সূত্র: ফক্স নিউজ

AS
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত