লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ভাড়া বাসায় ঢুকে একই পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় রায়পুর থানায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। নিহত চারজনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৬ জুন) বিকাল ৩টার দিকে নিহত শাহীনুর বেগমের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম শিফাত বাদী হয়ে নিহত অন্তর মজুমদারসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে নিহত মা ও তিন মেয়ের সুরতহাল এবং ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, ঘটনার পর গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারের মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার (৩০) নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর তেহমনী এলাকার একটি ফলের আড়ত থেকে ফল কিনে রায়পুর শহরে বিক্রি করতেন বলে জানা গেছে।
নিহত শাহীনুরের ছোট ভাই ছানা উল্লাহ বলেন, আমার বোনের কাছে স্বর্ণালংকার ছিল। সেগুলো লুট করতেই সে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের পাশাপাশি এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে বের করার দাবি জানাচ্ছি।
মামলার বাদী জুনাইদ ইসলাম শিফাত বলেন, ঘটনাটি টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেও ঘটতে পারে। কারণ বাড়িওয়ালা বাসায় না থাকলে ভাড়াটিয়ারা আমার মায়ের কাছেই ভাড়া জমা দিতেন। পরে বাড়িওয়ালা এসে সেই টাকা নিয়ে যেতেন। এ ছাড়া বাসার দায়িত্বে ছিলেন আম্মু।
নিহতদের জানাজা শুক্রবার বিকাল ৫টায় রায়পুর শহরের ধানহাটা এলাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে মরদেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাশেদ বলেন, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত দুটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকায় আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা অন্তর মজুমদার বাসায় ঢুকে গৃহবধূ শাহীনুর বেগম এবং তার তিন মেয়ে—সায়মা আক্তার, ইকরা আক্তার ও শিফা আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম (৩৮) ও তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২০) মারা যান। পরে গুরুতর আহত ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তারকে (৯) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদেরও মৃত্যু হয়।
লক্ষ্মীপুরে একই পরিবারের ৩ জনকে হত্যা