চট্টগ্রামে বন্যা ও পাহাড়ধসে ৩৯ জনের মৃত্যু, পানিবন্দি ৯ লক্ষাধিক মানুষ

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:১০ পিএম

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা-পাহাড়ধসে চট্টগ্রাম বিভাগের সামগ্রিক পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পাঁচ জেলায় এখন পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়াও প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ চরম দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছেন। বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পুরো জনজীবন থমকে গেছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে কক্সবাজারে, যার মধ্যে ১৩ জনই রোহিঙ্গা। এছাড়া চট্টগ্রামে আটজন, বান্দরবানে ছয়জন এবং রাঙামাটিতে দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। চট্টগ্রাম জেলায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হওয়া ২৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন চালু হওয়া ৬৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায়। এই দুই অঞ্চলের ৫ লক্ষাধিক মানুষ বর্তমানে সম্পূর্ণ পানিবন্দি। অতি বর্ষণে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় দুর্গম উপকূলীয় অঞ্চলগুলোয় ত্রাণ পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী স্পিডবোটের সাহায্যে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এদিকে কক্সবাজারের চকরিয়া ও মাতামুহুরীতেও ৩ লাখ মানুষ অবরুদ্ধ। আকস্মিক এই দুর্যোগের কারণে রাঙামাটির সাজেকে আটকে পড়া ৪৬১ জন পর্যটককে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে বান্দরবানের সকল পর্যটনকেন্দ্র ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে ৭০০ টন চাল ও ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যার একটি বড় অংশ বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ১২ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রামসহ পাহাড়ি ৫টি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা ও পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রাখা হয়েছে।

SN
আরও পড়ুন