মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে ঠোঁট সেলাই করে দেড় হাজার বন্দির অনশন

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ এএম

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে নিজেদের ঠোঁট সেলাই করে গণঅনশন শুরু করেছেন ইরানের বৃহত্তম কারাগার ঘেজেল হেসারের দেড় হাজার বন্দি।

সাম্প্রতিক সময়ে মাদক-সংক্রান্ত মামলা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে ব্যাপক হারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রেক্ষাপটে এ আন্দোলন শুরু করেছে প্রতিবাদকারীরা। 

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের অদূরে অবস্থিত ঘেজেল হেসার কারাগারে গত দুই সপ্তাহ ধরে এ অনশন চলছে। মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ছয় বন্দিকে ফাঁসি কার্যকরের আগে নির্জন সেলে স্থানান্তরের পর থেকেই এই কর্মসূচির সূচনা হয়।

নির্বাসিত মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, কারাবন্দিরা বারান্দায় বসে ‘মৃত্যুদণ্ডকে না বলুন’ লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করছেন এবং ‘আমাদের কণ্ঠস্বর হোন’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। একটি ভিডিওতে এক বন্দিকে বলতে শোনা যায়, ছয় দিন অনশনের পরও কর্তৃপক্ষের কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি নিজের ঠোঁট সেলাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পরে আরেক বন্দিকে সুই-সুতো দিয়ে তার ঠোঁট সেলাই করতে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে অসুস্থ বন্দিদের দ্রুত চিকিৎসার আবেদন জানিয়ে অভিযোগ করা হয়, কারারক্ষীরা সেলের দরজা না খোলায় গুরুতর অসুস্থদের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।  

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি বছরের যুদ্ধ পরিস্থিতির সময় ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে বন্দিদের উদ্যোগে শুরু হওয়া মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বর্তমান অনশনকে সর্বশেষ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

একই সঙ্গে রাজনৈতিক বন্দি ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডও বেড়েছে। গত মঙ্গলবার সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যার অভিযোগে ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’ করার অপরাধে দুই ব্যক্তির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের জানুয়ারির বিক্ষোভ-সম্পর্কিত ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৬ জনে।

আইএইচআরএনজিওর পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম বলেন, মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অধিকাংশ মানুষ সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং তাদের পক্ষে কার্যকরভাবে কথা বলার মতো কেউ নেই। তার ভাষ্য, শুধু গত বছরই মাদক মামলায় অন্তত ৭৯৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের রক্ষায় দেশীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ দেখা যায়নি। ঘেজেল হেসার কারাগারের বন্দিরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের উদ্দেশ্যেই নিজেদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন। 

এর আগেও ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একই কারাগারের প্রায় দেড় হাজার বন্দি টানা ছয় দিন অনশন করেছিলেন। সে সময় কর্তৃপক্ষ কারাগার পরিদর্শন করলেও পরিস্থিতির কোনো বাস্তব উন্নতি হয়নি বলে মানবাধিকারকর্মীরা দাবি করেন।

MAZ/YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত