দেড় বছরেও শেষ হয়নি সড়ক সংস্কারের কাজ

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৩ এএম

সাতক্ষীরার ভেটখালী আঞ্চলিক সড়কের শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ অংশে ধীর গতিতে সংস্কার কাজ চলায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় পুরো কাজ শেষ না হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় যানবাহন উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় প্রায় ৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কটির পুনর্বাসন ও প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মোট পাঁচটিটি প্যাকেজে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিয়ে ২০২৫ সালের অক্টোবরে কার্যাদেশ জারি করা হয়। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যেই এই মেগা প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩২ শতাংশ।

পরিবহনচালক রহমান বলেন, ঝুঁকি নিয়ে এই রাস্তায় গাড়ি চালাতে হয়। প্রতিদিন গাড়ি কাদায় আটকে যাচ্ছে বা উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। দৈনিক যা আয় হয়, তার বড় একটা অংশ চলে যায় গাড়ি মেরামতের কাজে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন,  অসুস্থ স্বজনকে নিয়ে হাসপাতালে যেতে কষ্ট হয়ে। জরুরি কোনো রোগীকে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এই অঞ্চলের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলো এই মহাসড়কটি। কিন্তু এই সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী না করলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও খারাপ হয়ে যাবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমডি মাঈনুদ্দীন লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক রবিউল ইসলাম অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার জানান, ব্যবহৃত সমস্ত কাঁচামাল ও নির্মাণ সামগ্রী যথাযথ ল্যাব টেস্ট এবং উৎস অনুমোদনের পরেই মাঠে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ জানান, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াসংক্রান্ত কিছু জটিলতার কারণে কার্যাদেশ সময়মতো দেওয়া সম্ভব হয়নি, যা প্রাথমিক সময়সীমাকে প্রভাবিত করেছে। প্রকল্পের ২ ও ৩ নম্বর প্যাকেজ এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি (পোল) সময়মতো অপসারণ না করায় কাজের গতি ব্যাহত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের সার্বিক সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

MU/YA
আরও পড়ুন