জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই একটি ফেরি উল্টে গিয়ে অন্তত ৪৪ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে নৌকাটি উল্টে যাওয়ার পর নিখোঁজ বহু মানুষকে উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সিভিল প্রটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, ৯০ জন ধারণক্ষমতার নৌকায় ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী অবস্থান করছিলেন।
টিকিটের হিসাব অনুযায়ী নৌকায় ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক, ৫ জন ক্রু এবং একাধিক শিশু ছিল। তবে বেঁচে যাওয়া এক ক্রু সদস্যের মতে, ঘটনার সময় ফেরিটিতে প্রায় ১৫৩ জন যাত্রী উপস্থিত ছিলেন।
কারিবা শহরের তীর থেকে বিভিন্ন দ্বীপে যাওয়ার ৩০ মিনিট পরই নৌকাটিতে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে। এরপরই একটি বড় ঢেউয়ের আঘাতে পুরো ফেরিটি উল্টে যায় এবং যাত্রীরা হ্রদে তলিয়ে যান।
দুর্ঘটনাস্থলে একটি বিশেষ ডুবুরি দলকে ইতোমধ্যে হেলিকপ্টারে করে পাঠানো হয়েছে। জিম্বাবুয়ে পুলিশ সামাজিক মাধ্যম 'এক্স'-এ জানিয়েছে, হ্রদ থেকে এ পর্যন্ত ৪৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, উল্টে যাওয়া ফেরির ওপর বেশ কিছু মানুষ আকুতি জানাচ্ছেন। এ সময় একাধিক স্পিডবোট ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধারকাজ চালাতে দেখা যায়।
উল্লেখ্য, জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়া সীমান্তে অবস্থিত কারিবা হ্রদটি আয়তনের দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ। ১৯৫০-এর দশকে জাম্বেজি নদীতে বাঁধ দিয়ে এটি তৈরি করা হয়।
এই হ্রদে এর আগেও বেশ কয়েকবার বড় ধরনের নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে একটি নৌকা ডুবে ২৪ শিশুসহ মোট ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
সূত্র: রেচেল স্যাভেজ (গার্ডিয়ান), এএফপি (AFP)।
শত্রুর ভূখণ্ডে অভিযান চালাতে আইআরজিসিকে ইরানের নির্দেশ
কাঠের সেতু ভেঙে পড়লো জামায়াতের এমপিসহ নেতারা