পুরুষ হয়েও এতদিন তারা খেলেছেন নারী হিসেবে!

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৯ এএম

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি জাতীয় পর্যায়ের দুই অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়ের বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নারী অ্যাথলেট হিসেবে এতদিন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এই দুই ক্রীড়াবিদের লিঙ্গপরিচয় নিয়ে ওঠা অভিযোগের পর মেডিক্যাল পরীক্ষার ভিত্তিতে তাদের জাতীয় প্রতিযোগিতায় অর্জিত সব পদক বাতিল এবং আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জান্নাত বেগম থ্রো ইভেন্টের অ্যাথলেট এবং তার বয়স ২৮ বছর। অন্যদিকে ১৯ বছর বয়সী কবিতা রায় স্প্রিন্ট ইভেন্টে অংশ নেন। দুজনই এতদিন নারী বিভাগে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আসছিলেন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটির সভায় তাদের অর্জিত পদক বাতিল ও আজীবন নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জান্নাত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এবং কবিতা নৌবাহিনীর অ্যাথলেট। তাদের লিঙ্গপরিচয় নিয়ে বিতর্কের পর বিষয়টি যাচাই করতে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের আগের কমিটি বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অনুরোধ জানিয়েছিল।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। বোর্ডের কার্যক্রম গত ১১ মে শেষ হয়। পরে ১৬ মে মেডিক্যাল বোর্ড তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন ফেডারেশনের কাছে জমা দেয়।

মেডিক্যাল বোর্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়, জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়ের শরীরে নারীদের স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ বেশি পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জান্নাত বেগমের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পাওয়া গেছে ১৯ দশমিক ৬৬ এনমোল/লিটার। ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা ২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটার। অর্থাৎ জান্নাতের মাত্রা নির্ধারিত সীমার প্রায় আট গুণ। অন্যদিকে কবিতা রায়ের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১৬ দশমিক ৫০ এনমোল/লিটার, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে সাড়ে ছয় গুণেরও বেশি।

ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকসের নিয়ম অনুযায়ী, নারী বিভাগে অংশগ্রহণের যোগ্যতা বজায় রাখতে একজন অ্যাথলেটের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা ২৪ মাস ২ দশমিক ৫ এনমোল/লিটারের নিচে থাকতে হয়।

বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন বলেন, চিকিৎসক বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জান্নাত ও কবিতা নারী নন, পুরুষ। এ কারণে জাতীয় প্রতিযোগিতায় তাদের অর্জিত সব পদক বাতিল করা হয়েছে।

তিনি জানান, জান্নাতের কয়েকটি স্বর্ণপদকসহ মোট নয়টি পদক রয়েছে। আর কবিতার পদক রয়েছে প্রায় চারটি। বাতিল হওয়া পদকগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগিতার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী যোগ্য অ্যাথলেটদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হবে।

আলী ইমাম তপন আরও বলেন, দুই অ্যাথলেটকেই আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী হিসেবে তারা ভবিষ্যতে আর কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না।

Maz
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত