অবসর নেওয়া সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেস (এসডিএফ) সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য বিশেষ সহায়তা সংস্থা গঠনের পরিকল্পনা করছে জাপান। ২০২৭ অর্থবছরেই সংস্থাটি চালু করা হতে পারে। উদ্যোগটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি।
গত জুনে বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু করেছে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। অবসরপ্রাপ্ত এসডিএফ সদস্যদের জন্য বিদ্যমান সহায়তা কীভাবে বাড়ানো যায় এবং এসব কার্যক্রম তদারকিতে একটি কেন্দ্রীয় কাঠামো কীভাবে গড়ে তোলা যায়, তা খতিয়ে দেখতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত ব্যয় ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেটের প্রস্তাবিত কাঠামো চলতি মাসের শেষ দিকে প্রকাশের কথা।
প্রস্তাবিত সংস্থার সম্ভাব্য কাজের মধ্যে রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের পরিবারের সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে সহায়তা, অবসর-পরবর্তী সুযোগ-সুবিধার কাঠামো পর্যালোচনা, আহত সদস্যদের সহায়তা এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সহযোগিতা করা।জুনে এ বিষয়ে বিশেষ প্যানেল গঠনের পর এক সংবাদ সম্মেলনে কোইজুমি বলেন, অবসর নেওয়া এসডিএফ সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা মর্যাদা ও আত্মসম্মানের সঙ্গে জীবন কাটাতে পারেন।
বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত এসডিএফ সদস্যদের জন্য সহায়তা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভাগের মধ্যে ভাগ হয়ে আছে। এসব নীতির সমন্বয় বা অবসরপ্রাপ্ত সদস্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য এক জায়গা থেকে সেবা দেওয়ার মতো কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থা নেই।
নতুন সংস্থাটির সম্ভাব্য নাম হতে পারে ‘রিটায়ার্ড এসডিএফ পার্সোনেল অ্যান্ড ফ্যামিলি সাপোর্ট এজেন্সি’। এটি অবসর-পরবর্তী সময়ে সামরিক সদস্যদের বেসামরিক জীবনে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে পরামর্শ ও সহায়তার একক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।সংস্থাটিকে সরকারি এজেন্সির মর্যাদা দেওয়া হলে কমিশনারের নেতৃত্বে এটি পরিচালিত হতে পারে। এতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়ার পাশাপাশি অর্থায়নও আরও স্থিতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এসডিএফে সদস্য নিয়োগ ও ধরে রাখার সংকটের মধ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাপান সরকার মনে করছে, চাকরির সময়ের পাশাপাশি অবসর-পরবর্তী সময়েও নির্ভরযোগ্য সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে সামরিক বাহিনীতে কর্মজীবন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
জাপানে জনসংখ্যাগত সংকটও ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এ কারণে আগামী এক দশকে এসডিএফের সদস্যসংখ্যা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন। তবে কোইজুমি জুনে জানিয়েছিলেন, ২০২৫ অর্থবছরে এসডিএফে ১১ হাজারের বেশি সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
নতুন সংস্থা গঠনের ক্ষেত্রে বিদেশের মডেলও বিবেচনা করছে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যদের স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, আবাসনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য পৃথক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত ইরান: পেজেশকিয়ান
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করার যোগ্যতা নেই ইসরায়েলের: জেনারেল জাভানি
'সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে আলোচনা করবে না ইরান'