ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার বিশাল অস্ত্রভান্ডারের সামান্য অংশই ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, এখন পর্যন্ত ব্যবহৃত অস্ত্রের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে খুবই কম।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র যা ব্যবহার করেছে, তা সামান্যই। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে এখনো বিপুল পরিমাণ মাঝারি পাল্লার অস্ত্র রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন দীর্ঘদিনের যুদ্ধে মার্কিন সামরিক অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী দীর্ঘপাল্লার দুটি নির্ভুল হামলা ব্যবস্থার, এটিএসিএমএস ও প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল, বিদ্যমান মজুতের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের তথ্য থেকে জানা গেছে।
অন্যদিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অস্ত্রের মজুত কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ সংঘাতে সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী রেথিয়নকে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াতে ২২৯০ কোটি ডলারের চুক্তি দিয়েছে বলে ফক্স নিউজ জানিয়েছে।
ফলে ট্রাম্প একদিকে যুদ্ধের ছয় মাসের ব্যবহৃত অস্ত্রকে ‘সামান্য’ বলে বর্ণনা করছেন, অন্যদিকে ওয়াশিংটন গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের উৎপাদন ও সরবরাহ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে, যা মার্কিন অস্ত্রভান্ডারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো করেছে। সূত্র: সিএনএন
ইসরায়েলি নির্বাচনে এখনই কাউকে সমর্থন করবেন না ট্রাম্প
হরমুজ ইস্যুতে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের
'ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র পেতে দেওয়া হবে না'