জেনারেল কাসেম সোলাইমানির সমাধিতে স্পিকার গালিবাফের শ্রদ্ধা

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:১১ পিএম

ইরাক সফরের প্রথম দিনেই বাগদাদে পৌঁছে শহীদ কাসেম সোলাইমানি ও ইরাকের জনতা সংগঠন বাহিনীর (পিএমইউ) সহকারী প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।

বুধবার বাগদাদে পৌঁছানোর পরপরই তিনি সরাসরি চলে যান দুই সামরিক নেতার স্মৃতিসৌধে। সেখানে ফুল অর্পণ করে এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে দুই শহীদের প্রতি সম্মান জানান ইরানের শীর্ষ এই আইনপ্রণেতা। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ইরাকের রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব।

২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের সাবেক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং তার সফরসঙ্গী আবু মাহদি আল-মুহান্দিস। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে চালানো ওই হামলার সময় তারা ইরাকের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আদিল আবদুল মাহদির সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ড ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে এবং পশ্চিম এশিয়াজুড়ে উত্তেজনার মাত্রা নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। সোলাইমানিকে ইরানের সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে গণ্য করা হতো, যিনি দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলজুড়ে ইরানের সামরিক কৌশল বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখতেন। অন্যদিকে আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ছিলেন ইরাকের পিএমইউ বাহিনীর অন্যতম শীর্ষ নেতা, যার হত্যা ইরাকেও রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।

দুই নেতার এই হত্যাকাণ্ডের ষষ্ঠ বার্ষিকী ঘনিয়ে আসার আগেই গালিবাফের এই ইরাক সফর এবং স্মৃতিসৌধ পরিদর্শনকে তেহরান-বাগদাদ সম্পর্কের ধারাবাহিকতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব বরাবরই সোলাইমানি ও মুহান্দিসের স্মৃতিকে দুই দেশের মধ্যকার নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছে।

গালিবাফের এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে ব্যাপকভাবে। ইরান বরাবরই ইরাকের সঙ্গে তার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে, আর এই সফরকে সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন শেষে গালিবাফের ইরাকের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসার কথা রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Attr/AHA
আরও পড়ুন