ক্যামেরুন সীমান্তে সোনার খনিতে ভূমিধস, নিহত বেড়ে ১০৭

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৯ এএম

ক্যামেরুন সীমান্তের কাছে মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের (সিএআর) পশ্চিমাঞ্চলের জামবইয়ে একটি সোনার খনি এলাকায় ভূমিধসে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় এক কর্মকর্তা বিবিসিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, খনির এলাকায় একটি ঢাল ধসে সেখানে থাকা মানুষের ওপর পড়ে। এ সময় কয়েকজনকে নিরাপদ স্থানে দৌড়ে পালাতেও দেখা যায়।

ক্যামেরুনের সীমান্তবর্তী শহর গারুয়া-বুলাইয়ের মেয়র আদামু আবদন বিবিসিকে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ চলছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভূমিধসের সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে মেয়র আবদন জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ১০৭টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

খনিশ্রমিক সেড্রিক এমবাঙ্গো বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মাটি পুরোপুরি ধসে পড়ে মানুষকে চাপা দিয়েছে। আমি যখন কথা বলছি, তখনো আরও মানুষ মাটির নিচে চাপা পড়ে আছেন।’

ক্যামেরুনের পূর্বাঞ্চলের গভর্নর দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন ক্যামেরুনের নাগরিক।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের বাবুয়া শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। খনিটি বাবুয়া থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে।

ভূমিধসের কারণ অনুসন্ধানে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। এএফপির উদ্ধৃত বাবুয়ার সরকারি কৌঁসুলির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খনিশ্রমিকেরা যেসব ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গে কাজ করছিলেন, সেগুলোর কয়েকটি ধসে পড়ার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এই অঞ্চলের বহু পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস হলো ক্ষুদ্র পরিসরের বা প্রথাগত খনিশিল্প। শ্রমনির্ভর এ পদ্ধতিতে খনিজ উত্তোলন করা হয় এবং এতে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত নানা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়।

খনি ধসে পড়া ও ভূমিধস এ অঞ্চলে নতুন কোনো ঘটনা নয়। সাধারণত খনির গর্তগুলো যথাযথভাবে বন্ধ করা হয় না। এর সঙ্গে অতিবৃষ্টির কারণে মাটি দুর্বল হয়ে পড়লে খনি ধসে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

Maz
আরও পড়ুন