আয়ারল্যান্ডে ঐতিহাসিক প্রাসাদ কিনলেন জাকারবার্গ

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:২৩ এএম

আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি ওয়াটারফোর্ডে ৪৪০ একর জমিসহ ঐতিহাসিক স্ট্রানক্যালি ক্যাসেল কিনেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর স্ত্রী প্রিসিলা চ্যান। গথিক স্থাপত্যশৈলীর এই প্রাসাদ ও এর সঙ্গে থাকা ১৭৮ হেক্টর জমি আয়ারল্যান্ডে অবস্থানের সময় পারিবারিক আবাস হিসেবে ব্যবহার করবেন তারা। দেশটিতেই মেটার আন্তর্জাতিক সদর দপ্তর অবস্থিত।

স্ট্রানক্যালি ক্যাসেল কিনতে জাকারবার্গ কত অর্থ ব্যয় করেছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। তবে আইরিশ টাইমস-এর হিসাব অনুযায়ী, সম্পত্তিটির সম্ভাব্য মূল্য ২ কোটি থেকে ৩ কোটি ইউরোর মধ্যে। জাকারবার্গের ৩৮৭ ফুট দীর্ঘ সুপারইয়টের আনুমানিক দামের তুলনায় প্রাসাদটির মূল্য প্রায় ১০ শতাংশ।

ঐতিহাসিক এই প্রাসাদটি ১৮৩০ সালে সাবেক কনজারভেটিভ এমপি জন কেইলির জন্য নির্মাণ করা হয়। স্থপতি জেমস ও জর্জ রিচার্ড পেইনের নকশায় তৈরি বিশাল এই ভবনের আয়তন সম্পর্কে একটি মজার তথ্যও রয়েছে। দ্য হাউসেস অব আয়ারল্যান্ড বইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ডাইনিং রুম থেকে রান্নাঘরে দ্রুতগতিতে হাঁটলেও যেতে সময় লাগে প্রায় সাড়ে চার মিনিট।

জাকারবার্গের একজন মুখপাত্র বৃহস্পতিবার জানান, ঐতিহাসিক বাড়িটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পেরে মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবার আনন্দিত। তারা আয়ারল্যান্ডে সময় কাটানোর জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন।

স্ট্রানক্যালি এস্টেটের আগের মালিক ছিলেন লন্ডনভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আরএবি ক্যাপিটালের সহপ্রতিষ্ঠাতা মাইকেল অ্যালেন-বাকলি ও তাঁর স্ত্রী জিয়ানকার্লা। ২০০০ সালের শুরুর দিকে তারা সম্পত্তিটি কিনে সংস্কার করেন। প্রায় ২৫ বছর সেখানে বসবাসের পর জাকারবার্গ পরিবারের কাছে এস্টেটটি বিক্রি করেন তারা।

এক বিবৃতিতে সাবেক মালিকরা বলেন, স্ট্রানক্যালি ক্যাসেল সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ পেয়ে তারা কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে জাকারবার্গ ও তাঁর পরিবার পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পদ্ধতিতে প্রাসাদ এবং আশপাশের এলাকার রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

আয়ারল্যান্ডের ন্যাশনাল বিল্ট হেরিটেজ সার্ভিসের ওয়েবসাইটে স্ট্রানক্যালি ক্যাসেলের স্থাপত্যশৈলী ও পাথরের সূক্ষ্ম কারুকাজের উচ্চমানের প্রশংসা করা হয়েছে। ঐতিহাসিক ব্ল্যাকওয়াটার উপত্যকায় স্ট্রানক্যালির মতো আরও বেশ কয়েকটি বড় এস্টেট রয়েছে।

এই অঞ্চলের অভিজাত সম্পত্তির মালিকদের তালিকায় আরও রয়েছেন উদ্যোক্তা জেমস ডাইসন। ২০২৪ সালে তিনি ব্যালিনাট্রে হাউজ কিনেছেন। এর আগে ২০২১ সালে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইপের সহপ্রতিষ্ঠাতা জন কলিসন কাউন্টি লাওসের অ্যাবে লেইক্স এস্টেট ক্রয় করেন।

এমএজেড
আরও পড়ুন