শর্ত ভঙ্গ করায় সাফারি পার্কে ফিরছে দুই হাতি

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম

মালিকপক্ষ নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ করায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর নির্দেশে গাজীপুর সাফারি পার্কে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে হাতি নিহার কলি ও সম্রাট বাহাদুরকে।

চলতি মাসের ১২ আগস্ট সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ শর্তসাপেক্ষে হাতি দুটিকে দুই ব্যক্তির জিম্মায় দিয়েছিল। পরে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়ার পর বন বিভাগ হাতি দুটিকে পুনরায় নিজেদের হেফাজতে নেয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান জানান, সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে পাঁচ সদস্যের একটি দল হাতি দুটি আনতে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়।এর মধ্যে একটি হাতি মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৪টার দিকে সাফারি পার্কে পৌঁছেছে। অপর হাতিটিও কিছুক্ষণের মধ্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে রোববার (২৪ আগস্ট) বন বিভাগের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে হাতি দুটি পুনরায় হেফাজতে নেন। মাদি হাতি নিহার কলিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি সংরক্ষিত বন এলাকা থেকে এবং পুরুষ হাতি সম্রাট বাহাদুরকে জুড়ী উপজেলার শিলুয়া চা-বাগানসংলগ্ন এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, জিম্মা গ্রহীতারা নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে পালন না করায় বিষয়টি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর নজরে আসে। পরে তাঁর নির্দেশে হাতি দুটিকে পুনরায় বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়। নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাফারি পার্কে পৌঁছানোর পর দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা হাতি দুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। এরপর নির্ধারিত শেডে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

সিলেট বন বিভাগের জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা সাদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশে রোববার দুপুরে লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনের কাছে সম্রাট বাহাদুরকে পাওয়া যায়। সেখানে হাতিটিকে দিয়ে গাছ টানার কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় তার মাথা ও শুঁড়ে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

তিনি বলেন, সাত থেকে আট কিলোমিটার পথ হেঁটে আসায় হাতিটি ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েছিল। পরে তাকে রেঞ্জ কার্যালয়ে রেখে পর্যাপ্ত পানি ও কলাগাছ খেতে দেওয়া হয়। গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানোর জন্য একটি ট্রাকও ভাড়া করা হয়েছে।

লাঠিটিলা বিট কর্মকর্তা সাজন বলেন, হাতিকে দিয়ে কাজ করানোর সময় নির্দেশ না মানায় মাহুতরা লোহার ধারালো বস্তু দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করছিলেন বলে তিনি দেখেছেন। তাঁর ধারণা, সম্রাটের শরীরের ক্ষতচিহ্নও এ ধরনের আঘাতের কারণে হয়ে থাকতে পারে।

তবে হাতি সম্রাটের দেখভালের দায়িত্বে থাকা মাহুত আবদুর রউফ দাবি করেন, জঙ্গলে প্রবেশের সময় লেবু গাছের কাঁটায় আঘাত লেগে হাতিটির শরীরে ক্ষত হয়েছে।

সম্প্রতি গাজীপুর সাফারি পার্কে একাধিক হাতির মৃত্যুর পর হাতিগুলোর নিরাপত্তা ও চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। গত ৬ আগস্ট ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে একটি হাতির মৃত্যু হয়। এর পরদিন ৭ আগস্ট মারা যায় রাজু বাহাদুর নামে আরেকটি হাতি। এর আগে গত ২৪ মে জয়িতা নামের একটি হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছিল রাজু বাহাদুর। তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠনের পাশাপাশি থাইল্যান্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরও পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল।

হাতি দুটি এর আগে কেন সাফারি পার্কে আনা হয়েছিল, সে বিষয়েও রয়েছে আলাদা প্রেক্ষাপট। ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার পোলসার গ্রামে হাতি সম্রাটের পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে মাহুত নজরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। হাতি দিয়ে বিভিন্ন গ্রামে টাকা তোলা ও নির্যাতনের অভিযোগের পর বন বিভাগ সম্রাটকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে পুনর্বাসনের জন্য তাকে গাজীপুর সাফারি পার্কে আনা হয়। চলতি মাসের ১২ আগস্ট নির্দিষ্ট কিছু শর্তে মালিকপক্ষের কাছে হাতিটিকে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয় হাতি নিহার কলিকে। অভিযোগ ছিল, হাতিটি দিয়ে রাস্তায় মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হতো। পাশাপাশি হাতিটিকে বেঁধে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে।

বর্তমানে বন বিভাগের হেফাজতে থাকা হাতি দুটি সাফারি পার্কে ফেরার পর তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

MCH
আরও পড়ুন