ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মধ্যকার ঐতিহাসিক সংহতি ও অভাবনীয় সমন্বয়ের গল্প নথিভুক্ত করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করার ওপর জোর দিয়েছেন সামরিক কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যে অভূতপূর্ব সক্ষমতা দেখাচ্ছে, তাকে জাতীয় গৌরবের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তেহরানে সেনাসদরে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এবং সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামি-নিয়া নিজ নিজ বাহিনীর কৌশলগত অবস্থান ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকালে আইআরজিসি মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও বলিষ্ঠ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আজ কেবল প্রতিরক্ষার প্রাচীর নয়, বরং গোটা ইরানি জাতির জন্য এক অনন্য ভরসার জায়গা। দেশের মানুষের কাছে এ বাহিনীর অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে মোহেব্বি উল্লেখ করেন, ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত ইরাকের বাথ শাসনের চাপিয়ে দেওয়া আট বছরের রক্তক্ষয়ী ‘পবিত্র প্রতিরক্ষা’ যুদ্ধের সময় থেকেই মূলত এই দুটি বাহিনীর মধ্যে ভ্রাতৃত্বের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। সেই সংগ্রামের দিনে আইআরজিসি যখন স্বাধীনভাবে নানা সামরিক অভিযান পরিচালনা করত, তখনও সেনাবাহিনীর বিমান ও আর্টিলারি ইউনিটগুলো সামনে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের আকাশ ও গোলন্দাজ সহায়তা দিয়েছিল।
তাঁর মতে, সামরিক ও অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর এই যৌথ শক্তির পাশাপাশি জনগণ ও সরকারের পারস্পরিক যোগাযোগ ইরানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই অর্জনকে দেশের প্রতিটি স্তরে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া দরকার।
আইআরজিসির বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে সেনাবাহিনী প্রধানের প্রতিনিধি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামি-নিয়া বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই বাহিনীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করার এই অভিজ্ঞতা আরও পরিপক্ব হয়েছে। এর পেছনের মূল শক্তি হলো আমাদের দীর্ঘদিনের যৌথ ইতিহাস। ইরানের প্রতিটি সামরিক বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবের শীর্ষ নেতার নির্দেশনায় একই লক্ষ্যে ও সমান আদর্শে কাজ করে যাচ্ছে।
অঞ্চলের সাম্প্রতিক যুদ্ধাবস্থা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সেনাপ্রধানের এই কর্মকর্তা অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্র ইসরাইলের সর্বাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও রণকৌশলকে প্রতিহত করতে ইরান পুরোপুরি সক্ষম হয়েছে। শত্রুপক্ষ তাদের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে এবং ইরানের প্রতিরোধ বু্যহ ভেঙে ফেলার সামর্থ্য তাদের নেই।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ আরও বিস্তৃত করতে বৈঠকে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জনগণের কাছে সামরিক বাহিনীর সঠিক বার্তা ও ঐতিহাসিক অর্জনগুলো পৌঁছে দিতে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন এবং নিয়মিত সমন্বয় সভা করার ব্যাপারে দুই মুখপাত্র একমত হন।
সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি
হরমুজের কাছে মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ট্রাম্পের হলিউড-ধাঁচের কৌশল
ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৫৪ বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি: হুথি