চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান সমন্বয় করতে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। আগামী মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হতে পারে বলে জাপানি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
জাপানি সংবাদমাধ্যম কিয়োদোর বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, টোকিও ও ওয়াশিংটন এরই মধ্যে বৈঠকটি আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর প্রধান প্রেক্ষাপট যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের সাম্প্রতিক গতিপথ, বিশেষ করে তাইওয়ান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে জাপানের উদ্বেগ।
ট্রাম্প আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে বর্তমান সূচিতে রয়েছে। বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিরল খনিজ, নিরাপত্তা ও অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বিষয় বৈঠকে আলোচনায় আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের সম্ভাব্য পরিবর্তনকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জাপান। বিশেষ করে তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান কোনোভাবে পরিবর্তিত হলে তা জাপানের নিরাপত্তা পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে—এমন উদ্বেগ টোকিওর মধ্যে রয়েছে বলে জাপানি সূত্রের বরাত দিয়ে আনাদোলু জানিয়েছে।
রয়টার্সও জানিয়েছে, এশিয়ার কয়েকটি মার্কিন মিত্র যুক্তরাষ্ট্র-চীন আলোচনায় তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাপানও ট্রাম্পের কাছ থেকে এ বিষয়ে আশ্বাস চাইছে।
তবে জাপান ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় নির্দিষ্ট কোনো বৈঠক কাঠামো বা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে চীনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবারের সম্ভাব্য বৈঠকটি তাকাইচি ও ট্রাম্পের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচির দায়িত্ব নেওয়ার পর চতুর্থ মুখোমুখি সাক্ষাৎ হতে পারে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে তাকাইচি জাপানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ওই মাসের ২৮ তারিখ টোকিওতে প্রথমবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ ওয়াশিংটনে তাদের বৈঠক হয়। জুনে ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনের ফাঁকেও দুই নেতা সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন।
এ ছাড়া দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকাইচি ও ট্রাম্পের মধ্যে অন্তত চারটি প্রকাশ্যে ঘোষিত ফোনালাপ হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের অক্টোবর ও নভেম্বর এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারি ও মে মাসের ফোনালাপ রয়েছে।
গত মে মাসে ফোনালাপে ট্রাম্প তাকাইচিকে চীনা প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে তার আলোচনার বিষয়ে অবহিত করেন। দুই নেতা তখন চীন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মতবিনিময় করেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এবার নিউইয়র্কের বৈঠকটি হতে যাচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ছে। ট্রাম্প এরই মধ্যে জানিয়েছেন, শির সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের যেকোনো বড় পরিবর্তন পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ওয়াশিংটন-বেইজিং শীর্ষ বৈঠকের আগে টোকিওর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সমন্বয় জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে তাকাইচি-ট্রাম্প বৈঠকে ঠিক কী সিদ্ধান্ত হবে বা দুই নেতা চীন ও তাইওয়ান বিষয়ে কী অবস্থান নেবেন, তা বৈঠকের আগে নিশ্চিত নয়। মঙ্গলবারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে আলোচনার বিষয় ও ফলাফল থেকেই এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
হাঙরের হামলায় সাঁতারুর মৃত্যু, উপকূলে বন্ধ একাধিক সৈকত
উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক বিস্ফোরণের পর বাড়ছে ভূমিকম্প
পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলায় মৃত্যু বেড়ে ২৭, আহত ৭৫